প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, সরকারি ব্যবস্থাপনায় কোনো প্রকার খরচ ছাড়াই ১০ হাজার কর্মীকে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কেন এটা গুরুত্বপূর্ণ: বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য এবং অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে এটি একটি অত্যন্ত সময়োপযোগী পদক্ষেপ। এই উদ্যোগ সফল হলে সাধারণ কর্মীরা ঋণমুক্ত হয়ে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন, যা দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
সামগ্রিক চিত্র: সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী এই বিশেষ পরিকল্পনার কথা জানান। অবৈধভাবে বিদেশযাত্রা রোধ এবং নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সংখ্যায়:
- এই প্রকল্পের আওতায় প্রাথমিকভাবে ১০ হাজার কর্মীকে বিনা খরচে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
- এছাড়া সুনামগঞ্জের পাঁচটি নির্বাচনী এলাকায় পাঁচটি নতুন প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক কর্মীকে দক্ষ করে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
অন্তরালে যা আছে: কেবল কর্মী পাঠানোই নয়, বরং তাদের দক্ষ করে তোলার ওপর সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
- মন্ত্রী জানিয়েছেন, সুনামগঞ্জের পাঁচটি নির্বাচনী এলাকায় পাঁচটি আধুনিক প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যেখানে কর্মীদের ভাষাগত দক্ষতা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
এরপর কী: প্রশিক্ষণকেন্দ্রগুলোতে দক্ষ প্রশিক্ষক ও আগ্রহী প্রশিক্ষণার্থী নিশ্চিত করতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রী।
- কর্মীদের ইংরেজি, আরবি, জাপানি, চীনা ও কোরিয়ানসহ বিভিন্ন ভাষায় পারদর্শী করে তোলার জন্য বিশেষ পাঠ্যক্রম চালু করা হবে।
সারকথা: সরকারের এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো বৈধ প্রক্রিয়ায় দক্ষ কর্মী বিদেশে পাঠানো এবং অবৈধ অভিবাসনের ঝুঁকি থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করা।
- দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি করতে পারলে দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে এবং কর্মীদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে।

