বাংলা সাহিত্যের বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে জাতি আজ গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছে তাঁর অসামান্য অবদান ও দ্রোহের চেতনাকে।
কেন এটা গুরুত্বপূর্ণ: বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রধান এই কবি তাঁর লেখনীর মাধ্যমে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে যে অগ্নিঝরা প্রেরণা জুগিয়েছিলেন, তা আজও অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আমাদের পথপ্রদর্শক। তাঁর সাহিত্যকর্ম কেবল শিল্প নয়, বরং শোষিত মানুষের মুক্তির সনদ হিসেবে আজও প্রাসঙ্গিক।
মূল ঘটনা: কবি তাঁর বিখ্যাত গানে মসজিদের পাশে সমাহিত হওয়ার যে আকুতি জানিয়েছিলেন, সেই ইচ্ছানুযায়ী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে তাঁকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। যদিও তাঁর স্ত্রী প্রমিলা দেবীর ইচ্ছা ছিল কবিকে তাঁর পৈতৃক নিবাস চুরুলিয়ায় সমাহিত করার, তবে রাষ্ট্রীয় ও ঐতিহাসিক প্রয়োজনে কবির বর্তমান সমাধিটিই চূড়ান্ত রূপ পায়।
সংখ্যায়: মাত্র ২৩ বছরের সক্রিয় সাহিত্য জীবনে তিনি রচনা করেছেন অগণিত কবিতা, গান, উপন্যাস ও নাটক। তাঁর এই সংক্ষিপ্ত কিন্তু বর্ণাঢ্য কর্মজীবন বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক হয়ে থাকবে।
সার্বিক চিত্র: কবির ২৩ বছরের সৃজনশীল সাহিত্য জীবন বাংলা ভাষাকে বিশ্বমঞ্চে মর্যাদার আসনে বসিয়েছে। ব্রিটিশ শাসকরা কবির দ্রোহী কণ্ঠস্বরকে ভয় পেত বলেই তাঁকে বারবার কারাবন্দি করা হয়েছিল, কিন্তু তাঁর কলম থামানো সম্ভব হয়নি।
এরপর কী: কবির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দেশজুড়ে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠন তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছে। তাঁর সাম্য ও মানবতার দর্শনকে নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে বিভিন্ন আলোচনা সভা ও সাহিত্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
সংক্ষেপে: কাজী নজরুল ইসলাম কেবল একজন কবি নন, তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে চিরকালীন দ্রোহের প্রতীক। শান্তি, সাম্য ও মানবতার যে অসাম্প্রদায়িক সমাজ তিনি কল্পনা করেছিলেন, তা বাস্তবায়নের মাধ্যমেই তাঁর প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো সম্ভব।

