নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় বিপুল প্রাণহানি ও নিখোঁজের ঘটনার প্রেক্ষাপটে জলবায়ু পরিবর্তন ও পাহাড়ি ভূপ্রকৃতির কারণে সৃষ্ট এই দুর্যোগ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
আকস্মিক বন্যা বা ‘ফ্লাশ ফ্লাড’ হলো অত্যন্ত দ্রুত ও অপ্রত্যাশিতভাবে সৃষ্ট পানির প্রবল স্রোত, যা কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই জনপদ ভাসিয়ে নিতে সক্ষম। এটি আবহাওয়াজনিত সবচেয়ে প্রাণঘাতী দুর্যোগগুলোর একটি, যাতে প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে পাঁচ হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারায়।
সাধারণ বন্যার পানি ধীরে বাড়লেও আকস্মিক বন্যা সাধারণত বজ্রঝড়, অতিবৃষ্টি কিংবা পাহাড়ি বরফ গলে সৃষ্টি হয়। খাড়া ঢাল, শক্ত মাটি বা দাবানলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পানি শোষণ করতে না পারায় এই বন্যার তীব্রতা বহুগুণ বেড়ে যায়।
উষ্ণ জলবায়ু বায়ুমণ্ডলের আর্দ্রতা ধারণের ক্ষমতা বাড়িয়ে দিচ্ছে, যা ভারী বৃষ্টিপাত ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি ও পৌনঃপুনিকতা বৃদ্ধি করছে। তবে নেপালের সাম্প্রতিক ঘটনার ক্ষেত্রে জলবায়ু পরিবর্তনের সরাসরি প্রভাব নিয়ে নিশ্চিত হতে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।
আকস্মিক বন্যার পূর্বাভাস দেওয়া প্রযুক্তিগতভাবে সম্ভব হলেও পাহাড়ি এলাকায় তথ্যের ঘাটতি ও দুর্গমতার কারণে হাতে সময় পাওয়া যায় খুবই কম। হিমালয় অঞ্চলে স্যাটেলাইট স্টেশন ও আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা এখন সময়ের দাবি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাণহানি কমাতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে নদীর তীরবর্তী জনবসতি সরিয়ে নেওয়া এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তথ্য আদান-প্রদানের সমন্বয় বাড়ানো জরুরি। হিমবাহ ও হ্রদের পানির স্তর পর্যবেক্ষণে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে, যাতে দুর্যোগের আগেই স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়া সম্ভব হয়।

