কুষ্টিয়া প্রতিনিধি|কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। উপজেলার প্রধান তিনটি ফিলিং স্টেশনে তেল না মেলায় সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সাম্প্রতিক বৈশ্বিক অস্থিরতাকে পুঁজি করে একটি অসাধু চক্র অধিক মুনাফার আশায় কৃত্রিম সংকট তৈরি করে জ্বালানি তেল মজুত করছে। মেসার্স সাগর ফিলিং স্টেশন, মেসার্স রফিক ফিলিং স্টেশন এবং মেসার্স হাফিজ ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি পাম্পই বর্তমানে জ্বালানি তেলশূন্য অবস্থায় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ পাম্পগুলোতে নোটিশ ঝুলিয়ে জানিয়েছে যে, তেল শেষ হয়ে গেছে এবং সরবরাহ পাওয়া সাপেক্ষে পুনরায় বিতরণ শুরু করা হবে।
ফিলিং স্টেশন ছাড়াও উপজেলায় পাঁচটি জ্বালানি বিক্রয় এজেন্সি রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, মথুরাপুর, হোসেনাবাদ, দৌলতপুর সেন্টার মোড় এবং আল্লারদর্গার এসব এজেন্সির কাছে পর্যাপ্ত তেল মজুত থাকলেও তারা তা খোলা বাজারে সরবরাহ করছে না। অভিযোগ উঠেছে যে, প্রতি লিটার তেল ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা পর্যন্ত উচ্চমূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে। এদিকে অবৈধভাবে মজুত করা তেল পাচারের সময় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বা বিজিবি তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ২০০ লিটার তেল জব্দ করেছে বলে জানা গেছে।
ফিলিং স্টেশনের মালিক ও কর্মচারীদের দেওয়া তথ্যমতে, গত ৪ মার্চ খুলনার মেঘনা ডিপো থেকে ডিজেল ও অকটেনের যে বরাদ্দ পাওয়া গিয়েছিল, তা ৮ মার্চ সন্ধ্যার মধ্যেই শেষ হয়ে গেছে। অনেক পাম্পে পেট্রোল ও অকটেন একেবারেই নেই এবং সামান্য পরিমাণ ডিজেল যা অবশিষ্ট আছে, তা অত্যন্ত সীমিত আকারে বিক্রি করা হচ্ছে। সীমান্ত এলাকায় তেলের পাচার রোধে বিজিবির ৪৭ ব্যাটালিয়ন বর্তমানে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সীমান্তজুড়ে নিয়মিত টহল এবং গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনে অস্থিরতার কারণে বর্তমানে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে জ্বালানি আমদানিতে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ মূলত সিঙ্গাপুর ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে পরিশোধিত এবং অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করে থাকে। বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংরক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে উচ্চমূল্যের কারণে দেশের তেল বিপণনকারী সংস্থাগুলো অত্যন্ত হিসাব করে সরকারি ডিপোগুলোতে তেল সরবরাহ করছে। এর ফলে কুষ্টিয়ার মতো দূরবর্তী এলাকাগুলোতে চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কিছুটা কমেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে স্থানীয় ফিলিং স্টেশন ও সাধারণ গ্রাহকদের ওপর।
দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনিন্দ্য গুহ জানিয়েছেন, প্রতিটি পাম্প এবং বিক্রয় এজেন্টের ওপর প্রশাসনের কড়া নজরদারি রয়েছে। ডিপো থেকে চাহিদার তুলনায় কম বরাদ্দ পাওয়ার কারণেই বর্তমানে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে এর সুযোগ নিয়ে কেউ যদি তেল মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন।

