নিজস্ব প্রতিবেদক, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম)
মাঠে সোনালি ফসলের ঢেউ, ঘরে ঘরে নতুন ধানের ঘ্রাণ- এমনটি হওয়ার কথা থাকলেও চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার কৃষকদের চোখে এখন জল। এবার ধানের বাম্পার ফলন হলেও কৃষকের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে উৎপাদন খরচ ও বাজারমূল্যের পাহাড়সমান ব্যবধান দেখে। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, ধান চাষ করে লাভের বদলে বড় অঙ্কের লোকসান গুনতে হচ্ছে এই অঞ্চলের প্রান্তিক চাষিদের।
স্থানীয় কৃষকদের তথ্যমতে, বর্তমানে লোহাগাড়া উপজেলায় প্রতি একর জমিতে ধান চাষ করতে সার, বীজ, সেচ এবং রক্ষণাবেক্ষণ মিলিয়ে খরচ হচ্ছে প্রায় ৯০ হাজার টাকা। অথচ বর্তমান বাজারে ধানের যে দাম, তাতে একর প্রতি কৃষকের ঘাটতি থাকছে প্রায় ১৮ হাজার টাকা। বাজারে প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৮৪০ টাকায়, যা চাষিদের বিনিয়োগ করা পুঁজির অর্ধেকও তুলে আনতে পারছে না।
চাষিরা জানান, এবারের মৌসুমে সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে শ্রমিকের মজুরি নিয়ে। ধান কাটার ভরা মৌসুমে তীব্র শ্রমিক সংকট দেখা দেওয়ায় একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ১ হাজার ৩০০ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। এর ওপর সার ও সেচের বাড়তি দাম তো আছেই। সব মিলিয়ে ফসল ঘরে তোলা পর্যন্ত যে পরিমাণ ব্যয় হচ্ছে, ধান বিক্রি করে তার সিকিভাগও লাভ করা সম্ভব হচ্ছে না।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই অবস্থা চলতে থাকলে কৃষকরা ভবিষ্যতে ধান চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন। আর কৃষকরা যদি মাঠ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন, তবে দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা বড় ধরনের সংকটে পড়বে। বর্তমানে বাজারে মধ্যস্বত্বভোগীদের যে দৌরাত্ম্য চলছে, তা নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে কৃষকের এই দুর্দশা দূর হবে না।
এই সংকট নিরসনে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ন্যায্যমূল্যে ধান সংগ্রহের জন্য সরকারি হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি। লোহাগাড়ার প্রান্তিক চাষিদের দাবি, সরকার যদি দ্রুত বাজার স্থিতিশীল করতে উদ্যোগ না নেয়, তবে অনেক কৃষকই এবার মূলধন হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়বেন। সোনালি ফসলের যে হাসি কৃষকের ঘরে আনন্দ বয়ে আনার কথা ছিল, ন্যায্যমূল্যের অভাবে তা এখন বিষাদে পরিণত হয়েছে।

