নজরুল ইসলাম, যশোর প্রতিনিধি | যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া বাজারের সাধারণ মুদি ব্যবসায়ী আরিফ হোসেনকে ঘিরে অবৈধ সম্পদ ও প্রতারণার অভিযোগ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি নকল চাল বিক্রির ঘটনায় প্রশাসনের অভিযানের পর তার বিরুদ্ধে ভারতীয় অবৈধ পণ্য বাণিজ্য, কালোবাজারি ও জালিয়াতির মাধ্যমে অল্প সময়ে বিপুল সম্পদ অর্জনের নানা তথ্য সামনে এসেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের দাবি, বিগত সরকারের আমল থেকে শুরু করে অদ্যাবধি সীমান্তপথে অবৈধ পণ্য এনে তিনি বিশাল সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শার্শার গোগা, রুদ্রপুর, দাউদখালী এবং সাতক্ষীরার কলারোয়া সীমান্ত দিয়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্র নিয়মিত জিরা, এলাচি, গুঁড়া দুধ, চা-পাতা, নামিদামি চকলেট ও বিভিন্ন কসমেটিকস সামগ্রী চোরাচালান করে আসছে। বাগআঁচড়া বাজারসহ আশপাশের এলাকায় এসব পণ্যের পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতা হিসেবে আরিফ হোসেনের সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া খোলাবাজার থেকে কম মূল্যের পণ্য কিনে নামিদামি কোম্পানির মোড়কে প্যাকেটজাত করে প্রতারণামূলকভাবে বিক্রির অভিযোগও তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের। সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসন তার দোকানে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে প্যাকেটজাত পণ্য জব্দ ও জরিমানা করেছে।
একসময় আর্থিক সংকটে দিন কাটানো আরিফ হোসেনের এমন দ্রুত সম্পদবৃদ্ধি এখন স্থানীয়দের প্রধান আলোচনার বিষয়। তার বাবা আব্দুল মাজেদ একসময় গ্রামে ঘুরে চিটাগুড় বিক্রি করে সংসার চালাতেন এবং বাগুড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে সাধারণ এক ঘরে তাদের বসবাস ছিল। পরে বাগআঁচড়া বাজারে ছোট একটি মুদি দোকান দিয়ে ব্যবসায়িক যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে তিনি এলাকায় তিনতলা আলিশান বাড়ি নির্মাণ করেছেন এবং কয়েক কোটি টাকা মূল্যের জমি কিনেছেন বলে জানা গেছে।
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রসঙ্গে আরিফ হোসেন বলেন, তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তবে নকল চাল প্রতারণার সঙ্গে নিজের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি তিনি স্বীকার করেছেন। এ বিষয়ে নাভারন সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) যশোরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন স্পষ্ট করেছেন যে, যদি কোনো ব্যক্তি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন বা দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে থাকেন, তবে তদন্ত সাপেক্ষে তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ বাজেয়াপ্তসহ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

