সেঁজুতি মুমু | রমজান মাস ও ঈদ নিয়ে আসে সম্প্রীতি, সংযম। এই রমজান মাসে সম্প্রীতির অন্যতম দৃষ্টান্ত দেখতে পাওয়া যায়।
মুলত রমজান মাসে স্কুল কলেজ প্রথম থেকে বন্ধ দিলেও খোলা থাকে বিশ্ববিদ্যালয়। অর্ধেক রোজা পার হওয়ার পর বন্ধ পাই আমরা। এর মধ্যে প্রতিদিন ইফতারের সময় বন্ধু-বান্ধব মিলে বেশ আনন্দে ইফতার করা হয়।
সবচেয়ে সুন্দর মূহুর্ত বন্ধুত্বে ধর্মের পার্থক্য গুরুত্ব পায় না। এখানে সব ধর্মের মানুষ বন্ধু। অনন্য সম্পর্ক এই বন্ধুত্ব।
ইফতারে দেখা যায় মুসলিম বন্ধুদের সাথে হিন্দু, খ্রিস্টান অন্যান্য ধর্মের বন্ধুরাও একত্রিত হয়ে ইফতার করে। সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত গড়ে ওঠে।
বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ দেয়ার পর, আমরা সবাই বাসায় চলে আসি। তখন আরেক বন্ধন দৃঢ় হয়। স্কুলে যে বন্ধু-বান্ধবীদের সাথে একসাথে সারাদিন কাটাতাম, তারা উচ্চশিক্ষার জন্য আজ দেশের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু রমজান মাস আর ঈদে আবার হয় পুণর্মিলনী।
আমাদের প্রাণের বিদ্যালয় কুড়িগ্রাম সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। একসাথে যেই বান্ধবীদের সাথে আট বছর কাটিয়েছি, আজ তাদের সাথে দেখা হয় বছরে একবার। সেই সুযোগ নিয়ে আসে রমজান মাস আর ঈদ।
আমার বান্ধবীদের কেউ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, কেউ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে, কেউ পড়ছে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে আবার কেউ বা পড়ছে মেডিকেলে। রমজানের বন্ধের সুবাদে আমাদের পুণর্মিলনী হলো।
আমরা ইফতারের সময় একসাথে হলাম। পাবলিকিয়ানদের একাংশ। যেন ফিরে গেলাম অতীতের সেই সোনালী দিনে। কত গল্প, একসাথে ছবি তোলা তারপর ঈদের উদ্দেশ্যে মেহেদী দেয়া। প্রায় চার ঘন্টা আমরা একসাথে কাটিয়েছি।
সময়টাতে হারিয়ে গিয়েছিলাম। ভাবতে গর্ববোধ করি আজ আমরা সবাই বাংলাদেশের সেরা সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করছি। সবাই একদিন সফলভাবে নিজের অবস্থান তৈরি করব, এ কথা আমরা জানি।
রমজানে আমাদের পুণর্মিলনী অনন্য ছিল। এখানে আমাদের বান্ধবীদের ধর্মীয় পরিচয় ভিন্ন, কিন্তু ওই যে বন্ধুত্বের কাছে কোনো বিভাজন মানা হয় না। রমজান মাস আমাদের সেই সম্প্রীতির বার্তা দেয়। আমাদের সম্প্রীতির বাংলাদেশের অন্যতম দৃষ্টান্ত পাওয়া যায় রমজান মাসে, ঈদে।
সকল ধর্ম, বর্ণের মানুষ একত্রে মিলেমিশে থাকবে এটাই তো আমাদের প্রত্যাশা। এভাবেই সম্প্রীতি অটূট থাকুক। এভাবেই আমরা গড়ব সোনার বাংলা।
লেখক: সেঁজুতি মুমু, শিক্ষার্থী, বাংলা বিভাগ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়।

