ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ তাদের রাজনৈতিক প্রভাব বাড়াতে এবং নারী ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে আলাদা একটি ‘ছাত্রী উইং’ গঠনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ: ইসলামপন্থী দলগুলোর প্রতি নারী অধিকার নিয়ে যে নেতিবাচক ধারণা রয়েছে, তা ভেঙে তরুণ নারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাংগঠনিক ভিত্তি তৈরি করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
বড় চিত্র: ১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে দলটিতে নারীদের জন্য কোনো পৃথক প্ল্যাটফর্ম ছিল না। সাম্প্রতিক নির্বাচনে নারী ভোটারদের গুরুত্ব এবং অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর নারী শাখার সক্রিয়তা দেখে ইসলামী আন্দোলন তাদের এই দীর্ঘদিনের কৌশলে পরিবর্তন আনছে।
লাইনের মধ্যে: দলটি মনে করছে প্রচলিত ‘মহিলা ইউনিট’ দিয়ে তরুণ প্রজন্মের ছাত্রীদের আকৃষ্ট করা সম্ভব হচ্ছে না।
জামায়াতে ইসলামীর মতো দলগুলো নারী ও ছাত্রীদের যেভাবে রাজনৈতিক কাজে ব্যবহার করছে, তা ইসলামী আন্দোলনের এই নতুন সিদ্ধান্তের পেছনে বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে।
সংখ্যায়:
- গত সংসদ নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন মোট ভোটের মাত্র ২.৭০ শতাংশ পায়।
- এই স্বল্প ভোট এবং মাত্র একটি আসনে জয় তাদের ভোট ব্যাংক বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা মনে করিয়ে দিয়েছে।
সামনে যা আসছে: আগামী ১৮ মে কেন্দ্রীয় সভায় এ বিষয়ে বিস্তারিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ঈদুল আজহার পর আনুষ্ঠানিকভাবে এই নতুন উইংয়ের ঘোষণা আসার কথা রয়েছে, যেখানে চিকিৎসক, শিক্ষক এবং আলেমদের মতো পেশাজীবী নারীদের নেতৃত্বে আনার পরিকল্পনা আছে।
সারকথা: এটি কেবল একটি রাজনৈতিক উইং নয়; দলটির পরিকল্পনা হলো নারী শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে নয়, বরং দাওয়াহ এবং সমাজকল্যাণমূলক কাজের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক তৈরি করা। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে এই সাংগঠনিক বিস্তার ঘটানোর ওপরও তারা বিশেষ জোর দিচ্ছে।

