কুবি প্রতিনিধি | কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীমের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ: কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবময় ইতিহাসে এই প্রথম নিজস্ব ক্যাম্পাস থেকে কোনো যোগ্য অধ্যাপককে উপাচার্যের সর্বোচ্চ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা সাধারণ শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের একটি বড় স্বপ্ন ও দাবি ছিল। এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ স্থবিরতা দূর করে প্রশাসনিক গতিশীলতা বাড়াতে এবং দীর্ঘদিনের একাডেমিক সেশনজট নিরসনে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা জোরালো আশা করছেন।
মূল খবর: বুধবার (১৪ মে) বিকেলে কুবি শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীমের কার্যালয়ে গিয়ে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। উক্ত অনুষ্ঠানে কুবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল মামুন, সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান শুভ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার ও সাইদুল ইসলাম শাওনসহ সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী সরাসরি অংশ নেন।
খবরের অন্তরালেঃ নিজস্ব ক্যাম্পাস থেকে একজন যোগ্য অভিভাবক ও উপাচার্য পাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের এক বড় প্রতীক্ষার অবসান ঘটেছে বলে মনে করছেন ছাত্রদল নেতারা। তারা দৃঢ়ভাবে আশা করছেন যে নতুন উপাচার্য কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের হয়ে কাজ না করে সব মতাদর্শের সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য সমান সুযোগ তৈরি করবেন এবং ক্যাম্পাসে সুন্দর রাজনৈতিক সহাবস্থান নিশ্চিত করবেন।
ছাত্রদলের বক্তব্য: শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান শুভ তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে:
- নিজ ক্যাম্পাস থেকে একজনকে ভিসি হিসেবে পাওয়া শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল, যা আজ পূরণ হয়েছে।
- তারা আশা করেন, উপাচার্য সকল শিক্ষার্থী ও স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে একটি উন্নত ও গবেষণানির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলবেন।
- দল-মত নির্বিশেষে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় সুন্দর ভূমিকা রাখবেন বলে তারা আশাবাদী।
পরবর্তী পদক্ষেপ: বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক শিক্ষার মানোন্নয়নে নতুন উপাচার্যকে খুব দ্রুতই শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ সকল স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে নিয়ে একটি সমন্বিত ও দূরদর্শী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের মৌলিক অধিকার রক্ষা এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক গবেষণাভিত্তিক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলাই হবে তাঁর প্রথম ও প্রধানতম কাজ।
মূল কথা: ক্যাম্পাসে শিক্ষার সুষ্ঠু একাডেমিক পরিবেশ পুরোপুরি ফিরিয়ে আনা এবং সব ছাত্রসংগঠনের জন্য সমান রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করাই এখন নতুন উপাচার্যের সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। ছাত্রদল স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে তারা একটি বৈষম্যহীন, আধুনিক ও উন্নতমানের উচ্চশিক্ষা ক্যাম্পাস গঠনে নতুন প্রশাসনের যেকোনো ইতিবাচক পদক্ষেপে পূর্ণ সহযোগিতা করবে।

