যশোরের মণিরামপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী হরিহরনগর বাওড় জোরপূর্বক দখল, মাছ লুট এবং বৈধ ইজারাদারদের প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
কেন এটা গুরুত্বপূর্ণ: সরকারি জলমহাল ইজারা নিয়ে মাছ চাষের মতো একটি বৈধ ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের এমন হস্তক্ষেপ জননিরাপত্তা ও আইনের শাসনের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইজারাদারদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ায় সরকারি রাজস্ব আয়ের উৎসটিও এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
সামগ্রিক চিত্র: ঝাঁপা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেডের মাধ্যমে রনি বিশ্বাস ও তাঁর অংশীদাররা ১৪৩১ থেকে ১৪৩৬ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত ছয় বছরের জন্য বাওড়টি ইজারা নিয়েছেন। নিয়ম মেনে পরিচালনা করার সময় স্থানীয় মো. তাহের হোসেন ও মো. সিরাজের নেতৃত্বে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বাওড়ে মাছ ধরছিল।
অন্তরালে যা আছে: গত ৯ জুলাই দুপুরে ধারালো অস্ত্র নিয়ে অভিযুক্তরা বাওড়ে প্রবেশ করে মাছ লুট শুরু করলে ইজারাদাররা বাধা দেন। এ সময় অভিযুক্তরা ইজারাদার ও শ্রমিকদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে অস্ত্রের মুখে তাড়িয়ে দেয় এবং লক্ষাধিক টাকার মাছ লুট করে নিয়ে যায়।
সংখ্যায়: ইজারা চুক্তির মেয়াদ ছয় বছরের জন্য নির্ধারিত থাকলেও, মাত্র কয়েক মাসের মাথায় এই দখল ও লুটের ঘটনা ঘটল। অভিযুক্তদের হামলায় লক্ষাধিক টাকার মাছ খোয়া গেছে বলে ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
এরপর কী: ভুক্তভোগী রনি বিশ্বাস গত ১০ জুলাই মণিরামপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এখন স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সেদিকেই তাকিয়ে আছেন ভুক্তভোগী ইজারাদার ও স্থানীয় মৎস্যজীবীরা।
সংক্ষেপে: ঘটনার পর থেকে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন ইজারাদার ও শ্রমিকরা, যার ফলে বাওড়ের মাছ চাষ কার্যক্রম পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে। সরকারি জলমহালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ জরুরি হয়ে পড়েছে।

