রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিচারণ ও এর রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা আন্দোলনের সর্বজনীন চেতনা সমুন্নত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
কেন এটা গুরুত্বপূর্ণ: জুলাই গণঅভ্যুত্থান কেবল একটি কোটা সংস্কার আন্দোলন ছিল না, বরং এটি ছিল দীর্ঘদিনের বৈষম্য ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত বিদ্রোহ। এই আলোচনা সভার মাধ্যমে আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ও পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতার একটি সমালোচনামূলক মূল্যায়ন উঠে এসেছে।
সামগ্রিক চিত্র: সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বক্তারা জুলাইয়ের ঘটনাপ্রবাহকে ভাষা আন্দোলন বা ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের মতো ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
- তারা মনে করেন, জুলাইয়ের চেতনাকে কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়।
অন্তরালে যা আছে: আলোচনা সভায় অধ্যাপক আ-আল মামুন সতর্ক করে বলেছেন, আন্দোলনের পর বিভিন্ন পক্ষের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা জুলাইয়ের সর্বজনীন চেতনাকে সংকুচিত করছে। সমালোচনামূলক মূল্যায়ন ছাড়া আন্দোলনের প্রকৃত লক্ষ্য অর্জন করা অসম্ভব বলে তিনি মত দেন।
এরপর কী: জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষিত বাকস্বাধীনতা, গণতান্ত্রিক অধিকার ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য আদর্শভিত্তিক সংগঠিত শক্তির প্রয়োজন বলে মনে করছেন ছাত্রনেতারা। তারা বলছেন, কেবল আবেগ দিয়ে নয়, বরং সুসংগঠিত রাজনৈতিক ও সামাজিক কাঠামোর মাধ্যমেই জুলাইয়ের স্বপ্ন বাস্তবায়ন সম্ভব।
সংক্ষেপে: জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো একক ব্যক্তির কৃতিত্ব নয়, বরং এটি সাধারণ ছাত্র-জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফসল। এই অর্জনকে টিকিয়ে রাখতে হলে বিভাজনমূলক বিতর্ক পরিহার করে রাষ্ট্রীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোয় আমূল পরিবর্তনের দিকে নজর দিতে হবে।

