রাজশাহীর বাগমারা থানার পুলিশ অভিনব কৌশলে অনলাইনে কসমেটিকস বিক্রেতা সেজে আট বছর ধরে পলাতক থাকা সাজাপ্রাপ্ত আসামি হাসিবুল ইসলামকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে।
কেন এটা গুরুত্বপূর্ণ: দীর্ঘদিন ধরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে পলাতক থাকা অপরাধীদের গ্রেপ্তারে এই ঘটনা পুলিশি কৌশলের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
- পরিবারের পক্ষ থেকে আসামি মালয়েশিয়ায় থাকার মিথ্যা তথ্য প্রচার করা হলেও, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে পুলিশ অপরাধীকে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে।
যা ঘটেছে: গ্রেপ্তারকৃত হাসিবুল ইসলাম বাগমারা উপজেলার সূর্যপাড়া গ্রামের বাসিন্দা, যার বিরুদ্ধে রাজশাহী, নওগাঁ ও নাটোর জেলায় প্রতারণা ও দাঙ্গা-হাঙ্গামার একাধিক মামলা রয়েছে। ২০১৯ সাল থেকে পলাতক থাকা এই আসামির বিরুদ্ধে ২০২৩ সাল পর্যন্ত চারটি মামলায় বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডাদেশ রয়েছে।
ঘটনার পেছনে যা আছে: পুলিশের অনুসন্ধান অনুযায়ী, হাসিবুল নিজেকে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত হিসেবে পরিচয় দিয়ে পরিবারকে বিভ্রান্ত করে রেখেছিলেন। তিনি ঢাকায় অবস্থান করে ‘রংধনু শপ’ নামে একটি অনলাইন কসমেটিকস ব্যবসার আড়ালে আত্মগোপনে ছিলেন। পুলিশ ক্রেতা সেজে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে এবং দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর তাঁর সঠিক অবস্থান নিশ্চিত করে অভিযান চালায়।
এরপর কী: গ্রেপ্তারের পর হাসিবুল ইসলামকে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
বাগমারা থানার পুলিশ জানিয়েছে, আদালতের মাধ্যমে তাঁকে জেলহাজতে পাঠানো হবে এবং তাঁর বিরুদ্ধে থাকা অন্যান্য পেন্ডিং মামলাগুলোর বিচারিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে।
সারকথা: এই সফল অভিযান প্রমাণ করে যে, তথ্যপ্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার এবং গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে দীর্ঘদিনের পলাতক অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব। স্থানীয়রা পুলিশের এই কৌশলী ভূমিকার প্রশংসা করেছেন এবং অন্যান্য পলাতক আসামিদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের তৎপরতা প্রত্যাশা করছেন।

