বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ২০৩০-৩১ অর্থবছরের মধ্যে সোনা ও হীরার অলংকার রপ্তানি থেকে ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয়ের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।
কেন এটা গুরুত্বপূর্ণ: জুয়েলারি খাতকে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী শিল্পে রূপান্তর করাই এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য। বর্তমানে পোশাক শিল্পের ওপর নির্ভরশীল রপ্তানি আয়ের উৎস বহুমুখীকরণে এই উদ্যোগ নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।
যা ঘটেছে: বাজুস প্রেসিডেন্ট এনামুল হক খান জানিয়েছেন, এই লক্ষ্য অর্জনে দেশজুড়ে ৫০০টি আধুনিক জুয়েলারি কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এই কারখানাগুলো চালু হলে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের সরাসরি এবং এক লাখ মানুষের পরোক্ষ কর্মসংস্থান তৈরি হবে।
সংবাদের পেছনে যা আছে: সংগঠনটি দাবি করেছে, নীতিমালার অস্পষ্টতা দূর করে অলংকার আমদানির পথ সহজ করা গেলে স্থানীয় বাজারে প্রতি ভরি সোনার দাম ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত কমানো সম্ভব। এছাড়া ‘স্বর্ণ নীতিমালা-২০১৮ (সংশোধিত)-২০২৬’ কার্যকর হলে সরকার বছরে আড়াই হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত বাড়তি রাজস্ব পেতে পারে।
সংখ্যায়: বর্তমানে বাজুস প্রায় ৪০ হাজার জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান এবং চার লাখ কারিগরের প্রতিনিধিত্ব করছে। এই খাতের ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ২৮ লাখ মানুষের জীবিকা নির্ভরশীল, যা দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।
এরপর কী: বাজুস ঢাকায় ১০ বিঘা জমিতে ‘স্বর্ণপল্লী’ নামে একটি বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারের কাছে জমি বরাদ্দ চেয়েছে। সেখানে হীরা প্রক্রিয়াজাতকরণ ইউনিট স্থাপন করা গেলে ২০৩১ সালের মধ্যে কেবল হীরার অলংকার থেকেই ২ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয় সম্ভব হবে।
সারকথা: অপ্রদর্শিত সোনা প্রদর্শনের সুযোগ দিয়ে সরকার ৫০০ থেকে ৭০০ কোটি টাকা রাজস্ব আয় করতে পারে এবং একই সঙ্গে একটি ডিজিটাল তথ্যভাণ্ডার গড়ে তুলতে পারে। দক্ষ কারিগরদের কাজে লাগিয়ে জিডিপিতে এই খাতের অবদান আরও শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বাড়ানোর স্বপ্ন দেখছে বাজুস।

