কক্সবাজারের নাজিরারটেক উপকূলে হাউসবোট ডুবে নিউজিল্যান্ডের ১৬ বছর বয়সী কিশোর আলবার্টের মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে; পরিবারটির কোনো সদস্যেরই বর্তমানে বৈধ ভিসা নেই এবং পাসপোর্টের মেয়াদও উত্তীর্ণ হয়েছে অনেক আগেই।
কেন এটা গুরুত্বপূর্ণ: নিউজিল্যান্ডের এই পরিবারটি প্রায় আড়াই বছর ধরে কোনো বৈধ নথিপত্র ছাড়াই বাংলাদেশের জলসীমায় বিলাসবহুল হাউসবোটে বসবাস করছিল। একজন কিশোরের মর্মান্তিক মৃত্যু এবং বিদেশি নাগরিকদের দীর্ঘমেয়াদী অবৈধ অবস্থানের বিষয়টি দেশের নিরাপত্তা ও অভিবাসন আইনের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সামগ্রিক চিত্র:
- জন এডওয়ার্ড, তার স্ত্রী বেলা এবং দুই সন্তানকে নিয়ে টুরিস্ট ভিসায় বাংলাদেশে এলেও তারা দীর্ঘ সময় ধরে কক্সবাজার উপকূলে অবস্থান করছিলেন।
- তারা প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে ‘আইল্যান্ড গার্ল’ নামে একটি আধুনিক হাউসবোট তৈরি করে সমুদ্র ও নদীপথে অবাধে যাতায়াত করছিলেন।
অন্তরালে যা আছে: এর আগেও চলতি বছরের এপ্রিলে মহেশখালীর সোনাদিয়া চরে জলদস্যুদের কবলে পড়েছিল পরিবারটি, তখন কোস্টগার্ড তাদের উদ্ধার করে সতর্ক করেছিল।
- ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার বিষয়টি জানা থাকা সত্ত্বেও তারা সমুদ্রযাত্রা অব্যাহত রাখে, যা তাদের চরম অবহেলা ও আইন অমান্য করার প্রবণতাকে নির্দেশ করে।
এরপর কী: নিউজিল্যান্ড দূতাবাসের প্রতিনিধিরা কক্সবাজারে পৌঁছেছেন এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে জীবিত উদ্ধার হওয়া তিন সদস্যকে দূতাবাসের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে।
- অবৈধভাবে দীর্ঘ সময় অবস্থানের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
সংক্ষেপে: ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও আড়াই বছর ধরে স্থানীয় প্রশাসনের নজর এড়িয়ে সমুদ্রপথে ঘুরে বেড়ানো এই পরিবারের জন্য শেষ পর্যন্ত বোটডুবির ঘটনাটি একটি বড় ট্র্যাজেডিতে রূপ নিয়েছে। এখন তাদের দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়াটিই আইনি জটিলতার মুখে পড়েছে।

