দক্ষিণ আফ্রিকার বেটিস বে সমুদ্রসৈকতে রোদের আলোয় দাঁড়িয়ে থাকা আফ্রিকান পেঙ্গুইনের দৃশ্য একসময় ছিল নিত্যদিনের পরিচিত ছবি। কিন্তু আজ এই আকর্ষণীয় পাখিগুলো অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।
২০২৪ সালে ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার (আইইউসিএন) আফ্রিকান পেঙ্গুইনকে ‘অতি বিপন্ন’ প্রজাতি হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। বর্তমানে তাদের প্রজননক্ষম জোড়ার সংখ্যা ১০ হাজারের নিচে নেমে এসেছে।
অ্যান্টার্কটিকার তীব্র শীত নয়, বরং দক্ষিণ আফ্রিকা ও নামিবিয়ার নাতিশীতোষ্ণ উপকূলীয় পরিবেশই এই প্রজাতির পেঙ্গুইনদের স্বাভাবিক আবাস। পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হলেও গত তিন দশকে তাদের সংখ্যা প্রায় ৮০ শতাংশ কমেছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, দূষণ ও আবাসস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি ভয়াবহ খাদ্যসংকটই এই পতনের প্রধান কারণ। দক্ষিণ আফ্রিকার বন ও মৎস্য বিভাগ এবং যুক্তরাজ্যের এক্সেটার বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ গবেষণায় জানা যায়, ২০০৪ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে রবেন ও ডাসেন দ্বীপে ৬০ হাজারের বেশি পেঙ্গুইন অনাহারে মারা গেছে।
জলবায়ু পরিবর্তন ও অতিরিক্ত বাণিজ্যিক মাছ ধরার ফলে সার্ডিন ও অ্যাঙ্কোভির মতো প্রধান খাদ্য প্রায় উধাও হয়ে গেছে। পশ্চিম দক্ষিণ আফ্রিকায় সার্ডিনের মজুত নেমে এসেছে মাত্র ২৫ শতাংশে।
এ দিকে, গবেষকদের মতে, খাবারের খোঁজে গভীর সমুদ্রে যেতে গিয়ে পূর্ণবয়স্ক পেঙ্গুইনরা দুর্বল হয়ে পড়ছে, যার প্রভাব সরাসরি পড়ছে ছানাদের ওপর। এতে অনেক ছানা খাবার না পেয়ে মারা যাচ্ছে।
আরও ভয়াবহ তথ্য দিয়েছেন গবেষক আলবার্ট স্নাইম্যান। তাঁর অনুসন্ধান বলছে, মাছের অভাবে মা-বাবা পেঙ্গুইনরা ছানাদের পাথর ও বালু খাওয়াচ্ছে, যা পাকস্থলীতে আটকে গিয়ে মৃত্যুর কারণ হচ্ছে।
এই সংকট মোকাবিলায় ‘সাউদার্ন আফ্রিকান ফাউন্ডেশন ফর দ্য কনজারভেশন অব কোস্টাল বার্ডস’ পরিত্যক্ত ও অসুস্থ ছানাদের উদ্ধার করে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিয়েছে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, গত বছর প্রায় এক হাজার কঙ্কালসার পেঙ্গুইনের চিকিৎসা করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, টেকসই মৎস্য ব্যবস্থাপনা ছাড়া এই প্রজাতি রক্ষা করা সম্ভব নয়। এখনই ব্যবস্থা না নিলে আফ্রিকান পেঙ্গুইন অচিরেই ইতিহাসে পরিণত হতে পারে।
সূত্র: সিএনএন
#আরএ

