আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে সঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে জুলাই সনদের ওপর গণভোট। এই গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর জয় নিশ্চিত হলে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনীত হওয়া জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে বলে শোনা যাচ্ছে। এই নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করবেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের সূত্রে জানা গেছে, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে গঠিত হওয়া সংবিধান সংস্কার পরিষদ প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ থেকে ১৮০ কর্ম দিবসের মধ্যে জুলাই জাতীয় সনদ এবং গণভোটের জনরায় মোতাবেক সংবিধান সংস্কার শেষ করবে এবং এরপর পরিষদের কার্যক্রম সমাপ্ত হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সংবিধান সংস্কার করা হলে বাংলাদেশে দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট আইনসভার যাত্রা শুরু হবে। এটি আদতে নিম্নকক্ষ এবং উচ্চকক্ষের সমন্বয়ে গঠিত হবে। জাতীয় সংসদ নিম্নকক্ষ হিসেবে এবং সিনেট উচ্চকক্ষ হিসেবে বিরাজমান থাকবে।
উচ্চকক্ষের সদস্য সংখ্যা হবে ১০০। এটি নিম্নকক্ষ তথা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্বমূলক হারে নির্ধারিত হবে। এটির মেয়াদ সাধারণ সংসদের মতোই শপথ গ্রহণের তারিখ হতে ৫ বছর পর্যন্ত বিদ্যমান থাকবে। তবে কোন কারণে নিম্নকক্ষ ভেঙে গেলে উচ্চকক্ষ আপনাআপনিই বিলুপ্ত ঘোষিত হবে।
উচ্চকক্ষের দায়িত্ব, ক্ষমতা ও ভূমিকার বিষয়ে জুলাই জাতীয় সনদে বলা হয়েছে, নিম্নকক্ষের প্রস্তাবিত আইন প্রণয়নের বিষয়াদি অনুপুঙ্খ পর্যালোচনা করবে উচ্চকক্ষের আইনসভার সদস্যবৃন্দ। তবে আলাদাভাবে উচ্চকক্ষের আইন প্রণয়নের কোনো ক্ষমতা থাকবে না। শুধু জাতীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদিতে আইন প্রণয়নের জন্য নিম্নকক্ষ বরাবর প্রস্তাব প্রেরণের এখতিয়ার থাকবে উচ্চকক্ষের।
এর বাইরে, সনদ মোতাবেক, নিম্নকক্ষের পাস হওয়া অর্থবিল এবং আস্থা ভোট ব্যতীত সকল ধরনের বিল চূড়ান্তভাবে পাস হতে উচ্চকক্ষের অনুমোদনের দরকার পড়বে। তবে উচ্চকক্ষ সর্বোচ্চ দুই মাসের বেশি কোনো বিল আটকে রাখতে পারবে না। এর ব্যত্যয় ঘটলে, বিলটি উচ্চকক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে বলে ধরে নেবে নিম্নকক্ষ।
সনদে আরও উল্লেখ করা হয়, নিম্ন ও উচ্চ তথা উভয় ধরনের কক্ষ কর্তৃক পাস করা বিল রাষ্ট্রপতির চূড়ান্ত সম্মতির জন্য প্রেরিত হবে। তবে এর আগে, উচ্চকক্ষ সংশোধনের সুপারিশসহ বিল পুনর্বিবেচনার জন্য নিম্নকক্ষে পাঠালে নিম্নকক্ষ উচ্চকক্ষের প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলো সম্পূর্ণ ও আংশিকভাবে গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যান করতে পারবে।
উচ্চকক্ষ থেকে প্রত্যাবর্তিত বিল নিম্নকক্ষের অধিবেশনে পুনরায় পাস হলে উচ্চকক্ষের অনুমোদন ব্যতিরেকেই বিলটি রাষ্ট্রপতির কাছে প্রেরিত হবে। একইসঙ্গে, সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত যে কোনো বিল উচ্চকক্ষের সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পাস করার বিধিমালা সংযুক্ত করা হয়েছে সনদটিতে।
সনদটি অনুযায়ী, উচ্চকক্ষের সদস্যগণের যোগ্যতা ও অযোগ্যতার মাপকাঠি হবে নিম্নকক্ষের সদস্যগণের যোগ্যতার সমান। এ দিকে, সংসদে উচ্চকক্ষ গঠন নিয়ে বেশ কয়েকটি দল ও জোটের ‘নোট অব ডিসেন্ট’ তথা মতানৈক্য থাকায় এই ইস্যুটি নিয়ে এখনও বিস্তর ঘোলাটে পরিবেশ বিরাজ করছে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গণে। এমতাবস্থায়, ১২ ফেব্রুয়ারির অনুষ্ঠিতব্য গণভোটে জনগণের প্রদত্ত রায়ই নির্ধারণ করে দেবে–উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষ সংশ্লিষ্ট আলাপ-আলোচনা কতদূর গড়াবে!
#আরএ

