ঢাকা-৮ আসনের ছয়টি ভোটকেন্দ্রের ফলাফল পরিবর্তনের অভিযোগ ঘিরে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বিএনপির মধ্যে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক ও ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেছেন, পরিকল্পিতভাবে কয়েকটি কেন্দ্রে ভোটের ফল পাল্টে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে গিয়ে তিনি এ অভিযোগ উত্থাপন করেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, সংশ্লিষ্ট ছয়টি কেন্দ্রে ভোট গণনার প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ছিল না। তাঁর প্রধান নির্বাচনি এজেন্ট শাহিন আহমেদের দাবি, ওই কেন্দ্রগুলোতে একাধিকবার ভোট গণনা করা হয়েছে এবং গণনার সময় এজেন্টদের আটকে রেখে বাতিল ভোট পুনরায় যুক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে প্রকৃত ফলাফল বিকৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, সিদ্ধেশ্বরী বালক উচ্চ বিদ্যালয়, মতিঝিল আইডিয়াল কলেজ ও ইস্কাটন গার্ডেন কেন্দ্রের যেসব ভোট প্রাথমিকভাবে বাতিল ঘোষণা করা হয়েছিল, সেগুলো বৈধ হিসেবে গণ্য করার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বিএনপির প্রভাবশালী নেতা মির্জা আব্বাস ও তাঁর অনুসারীদের বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপের অভিযোগ আনা হয়েছে।
শাহিন আহমেদ আরও জানান, মাহবুব আলী ইনস্টিটিউট ও মির্জা আব্বাস ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রের ভোট গণনা শেষে প্রার্থীদের প্রতিনিধিরা ফলাফলের কপি হাতে পেয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে ওই কেন্দ্রগুলোর ফল পুনরায় গণনার দাবি তুলে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ভোট গণনা শেষে কেন্দ্রগুলো থেকে কাউকে বের হতে দেওয়া হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় রাখা হয়েছে।
পল্টনের পরিবার-পরিকল্পনা কেন্দ্র নিয়েও আপত্তি তোলা হয়েছে। সেখানে ভোট গণনা শেষ হলেও ফল প্রকাশে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ এনসিপির পক্ষের। তাদের দাবি, বিএনপির কর্মী-সমর্থকেরা ফল ঘোষণায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে, ফলে কেন্দ্রটির চূড়ান্ত ফল অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।
এই অভিযোগের পর ঢাকা-৮ আসনে নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ভোটের ফল ঘিরে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মধ্যে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। এনসিপির নেতারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও স্বচ্ছতার সঙ্গে ফল প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন।
তাদের বক্তব্য, জনগণের ভোটাধিকার রক্ষায় কোনো ধরনের অনিয়ম মেনে নেওয়া হবে না। অন্যদিকে, অভিযোগগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
তবে পরিস্থিতি নজরদারিতে রয়েছে বলে জানা গেছে। ফলাফল নিয়ে এই অনিশ্চয়তা ও অভিযোগের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ঢাকা-৮ আসনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকার সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
#আরএ

