বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে দেশজুড়ে অনুষ্ঠিত হলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট সংসদের বিরোধী দল হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে।
তবে এই নির্বাচনে অংশ নিয়ে বেশকিছু প্রার্থী নির্ধারিত সংখ্যক ভোট না পেয়ে হারিয়েছেন জামানতও। নিবন্ধিত ৫১টি দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে সেই সারিতে আছেন অনেকেই।
সিলেট
সিলেট-২ আসনে বিধি মোতাবেক নির্ধারিত ন্যূনতম ১২.৫% ভোট না পাওয়ায় তিনজনের জামানত হারিয়েছেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আমির উদ্দিন হাতপাখা, জাতীয় পার্টির প্রার্থী মাহবুবুর রহমান ও গণফোরাম প্রার্থী মুজিবুল হক রয়েছেন এই তালিকায়।
কুড়িগ্রাম
কুড়িগ্রামের চারটি সংসদীয় আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীসহ মোট ১৮ জন জামানত হারিয়েছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন কুড়িগ্রাম-১ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হারিসুল বারী, গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী বিন ইয়ামিন মোল্লা এবং জাকের পার্টির আব্দুল হাই।
কুড়িগ্রাম-২ আসনে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে জাপা প্রার্থী সাবেক এমপি পনির উদ্দিন আহমেদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী নূর বখত, নাগরিক ঐক্যের প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুস সালাম, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী নূর মোহাম্মদ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির প্রার্থী আতিকুর রহমান, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির প্রার্থী নজরুল ইসলাম খান এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী সাফিউর রহমানের।কুড়িগ্রাম-৩ আসনে জাপা প্রার্থী আব্দুস সোবহান, গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী সরকার মো. নুরে এরশাদ সিদ্দিকী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী সাফিউর রহমান কাঙ্ক্ষিত ভোট পেতে ব্যর্থ হয়ে জামানত খুইয়েছেন।
কুড়িগ্রাম-৪ আসনে জাপা প্রার্থী কেএম ফজলুল মন্ডল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হাফিজুর রহমান, স্বতন্ত্র প্রার্থী রুকুনুজ্জামান, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) প্রার্থী রাজু আহমেদ, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) প্রার্থী শেখ মোহামমদ আব্দুল খালেকের জামানত বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
ভোলা
একইভাবে, ভোলার চারটি সংসদীয় আসনে মোট ২১জন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন ভোলা-১ আসনে ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মোহাম্মদ আশ্রাফ আলী, গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. আইনুর রহমান জুয়েল মিয়া, জাতীয় পার্টির মো. আকবর হোসাইন, এনপিপি প্রার্থী মো. মিজানুর রহমান, স্বতন্ত্র প্রার্থী রফিকুল ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা ওবায়দুর রহমান।
ভোলা-২ আসন থেকে জামানত হারান জাতীয় পার্টির প্রার্থী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম, স্বতন্ত্র প্রার্থী তাছলিমা বেগম, স্বতন্ত্র প্রার্থী মহিব্যুল্লাহ খোকন, এলডিপি প্রার্থী মোকফার উদ্দিন চৌধুরী, আমজনতার দলের আলাউদ্দিন ও মো. জাকির হোসেন খন্দকার।
ভোলা-৩ আসনে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী আবু তৈয়ব, জাতীয় পার্টির কামাল উদ্দিন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. মোসলেহ উদ্দিন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. রহমত উল্লাহ জামানত রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
এ ছাড়া, ভোলা-৪ আসনে জাতীয় গণতান্ত্রিক আন্দোলন এনডিএম প্রার্থী আবুল কালাম, স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, আমজনতার দলের মো. জালাল উদ্দীন রুমি, জাতীয় পার্টির মো. মিজানুর রহমান ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আবুল মোকাররম মো.কামাল উদ্দিন জামানত খুইয়েছেন।
গাইবান্ধা
গাইবান্ধা জেলাতেও ২৮ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে গাইবান্ধা-১ আসনে হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী রমজান আলী, কাঁচি প্রতীকের পরমানন্দ দাস, প্রজাপতি প্রতীকের কওছর আজম হান্নু, কলস প্রতীকের ছালমা আক্তার ও ঢেঁকি প্রতীক প্রার্থী মোস্তফা মহসিন রয়েছেন।
গাইবান্ধা-২ আসন থেকেও লাঙল প্রতীকের আব্দুর রশীদ সরকার, হাতপাখা প্রতীকের মোহাম্মদ আব্দুল মাজেদ, কলম প্রতীকের শাহেদুর জাহান, কাস্তে প্রতীকের মিহির কুমার ঘোষ ও কাঁচি প্রতীক প্রার্থী আহসানুল হাবীব সাঈদ জামানত খুইয়েছেন কাঙ্ক্ষিত ভোট না পেয়ে।
একইভাবে, লাঙল প্রতীকের মইনুর রাব্বী চৌধুরী, ট্রাক প্রতীকের সুরুজ মিয়া, হাতপাখা প্রতীকের এটিএম আওলাদ হোসাইন, কাস্তে প্রতীকের আব্দুল্লাহ আদিল, আপেল প্রতীকের মোছাদ্দিকুল ইসলাম, কলম প্রতীকের মনজুরুল হক, ঘোড়া প্রতীকের এস এম খাদেমুল ইসলাম খুদি ও ঢেঁকি প্রতীক প্রার্থী আজিজার রহমান গাইবান্ধা-৩ আসন থেকে জামানত হারিয়েছেন।
গাইবান্ধা-৪ থেকে লাঙল প্রতীকের কাজী মো. মশিউর রহমান, হাতপাখা প্রতীকের সৈয়দ তৌহিদুর রহমান তুহিন, কোদাল প্রতীকের আতোয়ারুল ইসলাম ও মোটরসাইকেল প্রতীক প্রার্থী আব্দুর রউফ আকন্দ কাঙ্ক্ষিত ভোট পেতে ব্যর্থ হন। গাইবান্ধা-৫ থেকেও লাঙল প্রতীকের শামীম হায়দার পাটোয়ারী, হাতপাখা প্রতীকের আজিজুল ইসলাম, কাঁচি প্রতীকের রাহেলা খাতুন, কাস্তে প্রতীকের শ্রী নিরমল, ঘোড়া প্রতীকের মেহেদী হাসান বিদ্যুৎ ও মোটরসাইকেল প্রতীক প্রার্থী এইচ এম গোলাম শহীদ রনজু জামানত হারিয়েছেন।
খুলনা
খুলনা-৬ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সিপিবির প্রশান্ত কুমার মন্ডল, ইসলামী আন্দোলনের আসাদুল্লাহ ফকির ও জাতীয় পার্টির মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর জামানত খুইয়েছেন। এ আসনে জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী মো. একেএম আবুল কালাম আজাদ বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন।
হবিগঞ্জ
হবিগঞ্জ-১ আসনে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে জাসদের প্রার্থী কাজী তোফায়েল আহমেদ, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের প্রার্থী বদরুল রেজার জামানতও বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
হবিগঞ্জ-২ আসনে জাতীয় পার্টির (লাঙল) প্রার্থী আব্দুল মুক্তাদির চৌধুরী, স্বতন্ত্র প্রার্থী আফছার আহমদ এবং বাসদের প্রার্থী লুকমান আহমদ তালুকদার জামানত খুইয়েছেন।
অপর দিকে, হবিগঞ্জ-৩ আসনে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী এসএম সরওয়ার, জাতীয় পার্টির প্রার্থী আব্দুল মুমিন চৌধুরী, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মহিব উদ্দিন এবং মুক্তিজোটের প্রার্থী শাহিনুর রহমানের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
হবিগঞ্জ-৪ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীও জামানত খোয়ানোর লজ্জায় পড়েছেন খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আহমদ আব্দুল কাদের, সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের মো. রাশেদুল ইসলাম খোকন, বাসদের মো. মুজিবুর রহমান, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী, স্বতন্ত্র প্রার্থী সালেহ আহমদ সাজন, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের শাহ মো. আল আমিন এবং ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মু. রেজাউল মোস্তফার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনে জাতীয় পার্টির আফজাল হোসেন, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের আব্দুল হালিম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনিরুল ইসলাম ও ইসলামী ফ্রন্টের নবাব শামসুল হোদা জামানত হারিয়েছেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির সাদেকুল ইসলাম, জাতীয় পার্টির মু. খুরশিদ আলম ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ইব্রাহিম খলিল জামানত হারিয়েছেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি’র ফজলুর ইসলাম খাঁন সুমন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনিরুল ইসলাম ও গণঅধিকার পরিষদের শফিকুল ইসলামের জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে।
নওগাঁ
নওগাঁ-১ আসনে নির্ধারিত ভোট না পাওয়ায় আকবর আলী (লাঙল), মো. আ. হক শাহ্ (হাতপাখা) এবং তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য মো. ছালেক চৌধুরী (স্বতন্ত্র) জামানত হারাচ্ছেন।
নওগাঁ-২ আসনে মতিবুল ইসলাম (এবি পার্টি) জামানত হারিয়েছেন। পাশাপাশি, নওগাঁ-৩ আসনে মাসুদ রানা, কালিপদ সরকার, আব্দুল্লাহ আল মামুন সৈকত, নাসির বিন আছগর, পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী ও সাদ্দাম হোসেন প্রদত্ত জামানত খোয়াচ্ছেন।
নওগাঁ-৪ আসন থেকে আলতাফ হোসেন, সোহরাব হোসাইন, ডা. এস এম ফজলুর রহমান এবং আরফানা বেগম জামানত রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছেন।
নওগাঁ-৫ আসনে শফিকুল ইসলাম, আব্দুর রহমান, আনোয়ার হোসেন এবং নওগাঁ-৬ আসনে সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবির, রফিকুল ইসলাম এবং আতিকুর রহমান রতন মোল্লা প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট না পাওয়ায় জামানত হারিয়েছেন।
এ ছাড়া, দেশের অন্যান্য আসনগুলোতেও বহু দলের মনোনীত এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্ধারিত ১২.৫% ভোট না পাওয়ায় জামানত রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছেন। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে জামানত বাজেয়াপ্তের হার অনেক হলেও সমগ্র প্রক্রিয়া ছিল অংশগ্রহণমূলক।
#আরএ

