ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পাওয়ার পর সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় এগিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথের পরই নতুন মন্ত্রিসভার দায়িত্ব বণ্টনের তালিকা দলীয় সূত্রে প্রকাশ পেয়েছে। এবারের মন্ত্রিসভায় ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী থাকছেন।
রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, আঞ্চলিক ভারসাম্য এবং টেকনোক্র্যাট অংশগ্রহণ—এই তিন বিষয়কে গুরুত্ব দিয়েই মন্ত্রণালয় বণ্টন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
দলীয় সূত্র অনুযায়ী, প্রশাসন ও অর্থনীতির মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলোতে অভিজ্ঞ নেতৃত্বকে সামনে আনা হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ–জ্বালানি, আইন, স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের মতো সংবেদনশীল খাতে দক্ষতা ও পূর্ব অভিজ্ঞতাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
সামাজিক নিরাপত্তা, নারী ও শিশু, পরিবেশ এবং শ্রম সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোতে নতুন মুখ ও টেকনোক্র্যাটদের অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে নীতিগত সংস্কারের ইঙ্গিতও মিলছে।অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রাখা হয়েছে দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের অভিজ্ঞ নেতাকে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলা জোরদারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দেওয়া হয়েছে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন নেতৃত্ব। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে চলমান সংকট নিরসনে প্রযুক্তিগত জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যা সরকার পরিচালনায় বাস্তবমুখী দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সামাজিক খাতেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক, সমাজকল্যাণ, মহিলা ও শিশু, খাদ্য এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মতো খাতে দায়িত্বপ্রাপ্তদের তালিকা থেকে বোঝা যায়, সামাজিক সুরক্ষা ও মানবিক ইস্যুগুলোকে নতুন সরকার অগ্রাধিকার দিতে চায়।
পাশাপাশি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে আলাদা মনোযোগ দেওয়ার মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন ও আঞ্চলিক সংবেদনশীলতার বিষয়টিও সামনে আনা হয়েছে।
পররাষ্ট্রনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক জোরদারে টেকনোক্র্যাটদের অন্তর্ভুক্তি সরকারের কূটনৈতিক কৌশলকে আরও পেশাদার করতে সহায়ক হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
একইভাবে তথ্য ও সম্প্রচার, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ খাত একত্রে সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে একজন টেকনোক্র্যাটকে, যা নীতিনির্ধারণে সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি তৈরিতে ভূমিকা রাখবে।
মন্ত্রিসভা গঠনের আগে মঙ্গলবার সকালে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা প্রথম ধাপে শপথ নেন। বিকেলে নতুন মন্ত্রিসভার আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। শপথের পরপরই প্রশাসনিক কার্যক্রম ও নীতিগত সিদ্ধান্তের গতি বাড়বে বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে।
নতুন সরকারের সামনে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নের মতো বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। মন্ত্রণালয় বণ্টনের এই তালিকা সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারের প্রাথমিক কৌশলেরই একটি প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নতুন মন্ত্রিসভায় মন্ত্রীদের তালিকা
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়), আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী (অর্থ মন্ত্রণালয়; পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়), সালাহউদ্দিন আহমদ (স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়), ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু (বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়), হাফিজ উদ্দিন আহমেদ (মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়), এ জেড এম জাহিদ হোসেন (মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়), খলিলুর রহমান (টেকনোক্র্যাট-পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়), আবদুল আউয়াল মিন্টু (পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়), কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ (ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়), মিজানুর রহমান মিনু (ভূমি মন্ত্রণালয়), নিতাই রায় চৌধুরী (সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়), খন্দকার আবদুল মুক্তাদির (বাণিজ্য মন্ত্রণালয়; শিল্প মন্ত্রণালয়; বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়), আরিফুল হক চৌধুরী (শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়; প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়), জহির উদ্দিন স্বপন (তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়), আমিন উর রশিদ (টেকনোক্র্যাট- কৃষি মন্ত্রণালয়; মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়; খাদ্য মন্ত্রণালয়), আফরোজা খানম রিতা (বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়), শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী (পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়), আসাদুল হাবীব দুলু (দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়), মো. আসাদুজ্জামান (আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়), জাকারিয়া তাহের সুমন (গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়), দীপেন দেওয়ান (পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়), আ ন ম এহসানুল হক মিলন (শিক্ষা মন্ত্রণালয়; প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়), সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল (স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়), ফকির মাহবুব আনাম (ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়; বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়), শেখ রবিউল আলম (সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়; রেলপথ মন্ত্রণালয়; নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়)।
#আরএ

