ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আগামী মার্চ মাসের মাঝামাঝি অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমেদ। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সংসদের প্রথম বৈঠক বসতে পারে ১২ মার্চ অথবা তার দুই-একদিন আগে। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাতে এ বিষয়ে তিনি গণমাধ্যমকে অবহিত করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নতুন সংসদের যাত্রা শুরুর এই অধিবেশনটি হবে বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এখানেই জাতীয় সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন সম্পন্ন হবে।
একই সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় জারি হওয়া বিভিন্ন অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপন করার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় রীতি অনুযায়ী শোক প্রস্তাবও গৃহীত হবে বলে জানান তিনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনকে ঘিরে ইতোমধ্যে সংসদ সচিবালয় প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম শুরু করেছে। অধিবেশনের তারিখ চূড়ান্ত হলে রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক আহ্বান জানানো হবে। নতুন সংসদের কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকেও প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।
রাজনৈতিক অঙ্গনে এই অধিবেশনকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। কারণ, সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনের পর এই প্রথম পূর্ণাঙ্গ সংসদীয় কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। সংসদের প্রথম অধিবেশনের মধ্য দিয়েই কার্যত নতুন সরকারের আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ার সূচনা হবে। এ কারণে সরকার ও বিরোধী দল — উভয় পক্ষই এই অধিবেশনের দিকে তাকিয়ে আছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংসদ নেতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দীর্ঘ সময় পর তাঁর নেতৃত্বেই সংসদের কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
অন্য দিকে, বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। সংসদের ভেতরে সরকার ও বিরোধী দলের এই নতুন নেতৃত্ব সংসদীয় রাজনীতিতে ভিন্ন এক বাস্তবতা তৈরি করবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রথম অধিবেশনে উত্থাপিত অধ্যাদেশগুলো নিয়ে সংসদে আলোচনা হতে পারে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জারি হওয়া এসব অধ্যাদেশ আইনে পরিণত হবে কি না, তা নির্ভর করবে সংসদের অনুমোদনের ওপর। ফলে প্রথম অধিবেশনেই সরকারের নীতিগত অবস্থান ও আইন প্রণয়নের অগ্রাধিকার অনেকটা স্পষ্ট হয়ে উঠবে।
এ ছাড়া স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনও রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। সংসদের শৃঙ্খলা রক্ষা ও কার্যক্রম পরিচালনায় স্পিকারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এই নির্বাচন ঘিরে দলগুলোর আগ্রহ রয়েছে। বিরোধী দলের ভূমিকা, সংসদীয় প্রশ্নোত্তর এবং ভবিষ্যৎ আইন প্রণয়নের গতিপ্রকৃতি — সবকিছুই অনেকটা নির্ভর করবে এই নেতৃত্বের ওপর।
মার্চের মাঝামাঝিতে অনুষ্ঠেয় প্রথম অধিবেশনকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। নির্বাচনের পর গঠিত সংসদের কার্যকারিতা, সরকার ও বিরোধী দলের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং আইন প্রণয়নের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা এই অধিবেশনেই প্রাথমিকভাবে স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
#আরএ

