ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল ও শহীদুল্লাহ্ হলের মাঝামাঝি এলাকায় অবস্থিত মুসা খান মসজিদ রাজধানীর প্রাচীন মোগল স্থাপত্যের একটি উল্লেখযোগ্য নিদর্শন হিসেবে পরিগণিত হয়ে আসছে বহুকাল ধরে।
ব্যস্ত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের মাঝেই দাঁড়িয়ে থাকা এই মসজিদটি ইতিহাস, স্থাপত্য ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য বহন করে। মোগল আমলে নির্মিত এই মসজিদ ঢাকার পুরোনো স্থাপত্য ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
মুসা খান ছিলেন দেশের প্রখ্যাত বারো ভূঁইয়ার অন্যতম নেতা ঈসা খানের পুত্র। ইতিহাসবিদদের মতে, তার নামানুসারেই এই মসজিদের নামকরণ করা হয়। ধারণা করা হয়, ১৭শ শতকে মোগল শাসনামলে মসজিদটি নির্মিত হয়। ঢাকার অন্যান্য মোগল স্থাপনার মতো এটিও ঐ সময়কার ধর্মীয় স্থাপত্যের একটি সুন্দর উদাহরণ।
মসজিদটির স্থাপত্যশৈলীতে মোগল প্রভাব স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। এটি একটি উঁচু প্ল্যাটফর্মের ওপর নির্মিত, যেখানে উঠতে কয়েক ধাপ সিঁড়ি ব্যবহার করতে হয়।
মসজিদটির প্রধান অংশে তিনটি গম্বুজ রয়েছে, যা মোগল স্থাপত্যে প্রচলিত নকশার অনুসরণে তৈরি। গম্বুজগুলোর নিচে রয়েছে তিনটি খিলানযুক্ত প্রবেশপথ। খিলানের নকশা ও দেয়ালের অলংকরণে মোগল যুগের কারুকার্যের ছাপ দেখা যায়।
মসজিদের দেয়ালগুলো তুলনামূলকভাবে পুরু এবং শক্ত নির্মাণশৈলীর। বাইরের দিকে রয়েছে সরল কিন্তু আকর্ষণীয় নকশা। গম্বুজগুলোর গঠন এবং খিলানগুলো একত্রে মসজিদটির সৌন্দর্যকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে।
ঐতিহাসিকভাবে এটি শুধু ধর্মীয় উপাসনালয়ই নয়, বরং ঢাকার মোগল যুগের স্থাপত্য ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যস্ত পরিবেশের মধ্যেও মুসা খান মসজিদ একটি শান্ত পরিবেশ তৈরি করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং আশপাশের মানুষ নিয়মিত এখানে নামাজ আদায় করেন। জুমার দিনে মুসল্লিদের উপস্থিতি বেশি দেখা যায়। ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণে অনেক দর্শনার্থী ও গবেষকও এই মসজিদটি দেখতে আসেন।
কীভাবে যাবেন
মুসা খান মসজিদে যেতে হলে প্রথমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আসতে হবে। গুলিস্তান, শাহবাগ বা নীলক্ষেত থেকে রিকশা বা হেঁটে সহজেই কার্জন হল এলাকায় পৌঁছানো যায়।
কার্জন হল ও শহীদুল্লাহ্ হলের মাঝখানে অবস্থান হওয়ায় মসজিদটি খুঁজে পাওয়া সহজ। শাহবাগ মোড় থেকে রিকশায় গেলে কয়েক মিনিটেই সেখানে পৌঁছানো যায়।
যা দেখবেন
মসজিদের প্রধান আকর্ষণ এর মোগল স্থাপত্যশৈলী। তিন গম্বুজ বিশিষ্ট কাঠামো, খিলানযুক্ত প্রবেশপথ এবং উঁচু প্ল্যাটফর্মের নকশা দর্শনার্থীদের নজর কাড়ে।
মসজিদের আশপাশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর মধ্যে কার্জন হল, শহীদুল্লাহ্ হল এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিও কাছাকাছি দেখা যায়।
কোথায় খাবেন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার আশপাশে খাবারের অনেক বিকল্প রয়েছে। নীলক্ষেত, শাহবাগ এবং টিএসসি এলাকায় বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট ও ক্যাফে পাওয়া যায়।
এখানে দেশি খাবার, ফাস্টফুড, চা-নাস্তা থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের খাবারের দোকান রয়েছে। শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীদের কাছে এসব স্থান জনপ্রিয়।
কোথায় থাকবেনমু
সা খান মসজিদ ঘুরতে সাধারণত একদিনই যথেষ্ট। তবে দূর থেকে এলে শাহবাগ, মতিঝিল বা পুরান ঢাকার বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে থাকার ব্যবস্থা পাওয়া যায়। এসব এলাকার হোটেলগুলো থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় যাতায়াত সহজ।
মোগল আমলের স্থাপত্য ও ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা মুসা খান মসজিদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভেতরে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা হিসেবে পরিচিত।

