ঢাকার পাশেই কেরানীগঞ্জের আবাসিক অঞ্চলগুলোর দ্রুত বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে গড়ে উঠেছে নতুন নতুন ধর্মীয় ও সামাজিক স্থাপনা। এর মধ্যে সাউথ টাউন জামে মসজিদ স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাসনালয় হিসেবে পরিচিত।
কেরানীগঞ্জের সাউথ টাউন আবাসিক এলাকায় অবস্থিত এই মসজিদটি শুধু নামাজ আদায়ের স্থান নয়, বরং এলাকাবাসীর সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডেরও কেন্দ্রবিন্দু।
আধুনিক স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত সাউথ টাউন জামে মসজিদটি দূর থেকেই নজর কাড়ে। সাদা ও হালকা রঙের সমন্বয়ে নির্মিত মসজিদটির গম্বুজ, মিনার এবং প্রশস্ত বারান্দা এক ধরনের নান্দনিক পরিবেশ তৈরি করেছে।
আবাসিক এলাকার মাঝখানে অবস্থিত হওয়ায় মসজিদটিকে ঘিরে রয়েছে পরিচ্ছন্ন ও শান্ত পরিবেশ। ফজর থেকে এশা পর্যন্ত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পাশাপাশি জুমার নামাজে এখানে মুসল্লিদের উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।
মসজিদের ভেতরের নামাজঘর প্রশস্ত এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা থাকায় গরমের সময়ও মুসল্লিরা স্বাচ্ছন্দ্যে নামাজ আদায় করতে পারেন। দেয়ালের ক্যালিগ্রাফি, জ্যামিতিক নকশা এবং ঝাড়বাতির আলো মসজিদের অভ্যন্তরকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
এছাড়া অজুখানা, প্রবেশপথ এবং বারান্দা এমনভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছে যাতে একসঙ্গে অনেক মুসল্লি সহজে ব্যবহার করতে পারেন। রমজান মাসে সাউথ টাউন জামে মসজিদে ধর্মীয় কার্যক্রম আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। তারাবির নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত এবং বিভিন্ন ধর্মীয় আলোচনা আয়োজন করা হয়।
অনেক সময় স্থানীয় বাসিন্দারা মিলে ইফতার আয়োজনও করেন। ফলে এটি কেবল একটি মসজিদ নয়, বরং এলাকাবাসীর ধর্মীয় মিলনস্থলে পরিণত হয়েছে।
কীভাবে যাবেন
ঢাকার যেকোনো স্থান থেকে প্রথমে গুলিস্তান বা সদরঘাট এলাকায় আসতে হবে। সেখান থেকে কেরানীগঞ্জগামী বাস, সিএনজি বা অটোরিকশায় সাউথ টাউন আবাসিক এলাকায় যাওয়া যায়।
বাবুবাজার বা পোস্তগোলা সেতু পার হয়ে কেরানীগঞ্জের দিকে এগোলে স্থানীয় লোকজনের কাছে সাউথ টাউন জামে মসজিদের অবস্থান জেনে সহজেই পৌঁছানো সম্ভব। ব্যক্তিগত গাড়িতে গেলে পোস্তগোলা ব্রিজ ব্যবহার করাই সবচেয়ে সুবিধাজনক।
যা দেখবেন
মসজিদের প্রধান আকর্ষণ এর স্থাপত্য ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ। গম্বুজ ও মিনারের সমন্বিত নকশা দূর থেকে দৃষ্টিনন্দন মনে হয়।
ভেতরে রয়েছে প্রশস্ত নামাজঘর, দেয়ালে আরবি ক্যালিগ্রাফি এবং ঝাড়বাতির আলোকসজ্জা। মসজিদের চারপাশে খোলা জায়গা থাকায় পরিবেশ শান্ত ও প্রশান্ত। জুমার দিনে মুসল্লিদের উপস্থিতি এবং ধর্মীয় পরিবেশ দর্শনার্থীদের জন্য আলাদা অভিজ্ঞতা তৈরি করে।
কোথায় খাবেন
কেরানীগঞ্জ এলাকায় বিভিন্ন স্থানীয় রেস্টুরেন্ট ও খাবারের দোকান রয়েছে। সাউথ টাউন এলাকার আশপাশে ভাত, মাছ, মাংস, ভর্তা ও দেশি খাবারের ছোট হোটেল পাওয়া যায়।
এছাড়া বিরিয়ানি, কাবাব বা নাস্তার জন্য স্থানীয় ফাস্টফুড দোকানও রয়েছে। ঢাকার গুলিস্তান বা সদরঘাট এলাকায় ফিরলে বড় রেস্টুরেন্টের আরও বেশি বিকল্প পাওয়া যায়।
কোথায় থাকবেন
সাউথ টাউন জামে মসজিদ ঘুরতে সাধারণত একদিনেই যাওয়া-আসা করা যায়। তবে দূর থেকে এলে ঢাকার গুলিস্তান, সদরঘাট বা পুরান ঢাকার বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে থাকার ব্যবস্থা রয়েছে।
এসব এলাকায় মাঝারি মানের গেস্টহাউস ও হোটেল সহজেই পাওয়া যায়। ঢাকার কেন্দ্রীয় এলাকাগুলো থেকে কেরানীগঞ্জে যাতায়াতও তুলনামূলক সহজ।
সাউথ টাউন জামে মসজিদ কেরানীগঞ্জের আধুনিক আবাসিক জীবনের মধ্যে ধর্মীয় চর্চা ও সামাজিক সম্প্রীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হয়ে উঠেছে।

