রাজধানীর ব্যস্ত জীবনের মাঝেও কিছু জায়গা রয়েছে যেখানে পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে কিছুটা অবসর সময় কাটানো যায়।
ঢাকার শ্যামপুরে অবস্থিত বুড়িগঙ্গা ইকো পার্ক তেমনই একটি বিনোদনকেন্দ্র। বুড়িগঙ্গা নদীর তীরঘেঁষা এই পার্কটি প্রকৃতি ও বিনোদনের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি পরিচিত অবকাশস্থল।
২০১২ সালে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এই পার্কটি প্রতিষ্ঠা করে। মূলত নদীর তীরবর্তী পরিবেশ সংরক্ষণ এবং নগরবাসীর জন্য একটি সবুজ বিনোদনস্থল তৈরির উদ্দেশ্যেই এর নির্মাণ। সময়ের সঙ্গে পার্কটি ঢাকার দক্ষিণাংশের বাসিন্দাদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
পার্কে প্রবেশের জন্য জনপ্রতি টিকিটের মূল্য ৫০ টাকা। ভেতরে বিভিন্ন ধরনের রাইড উপভোগ করতে চাইলে আলাদা টিকিট নিতে হয়, যার মূল্য সাধারণত ৩০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে। এখানে ২৪টিরও বেশি রাইড রয়েছে, যা শিশু থেকে বড়দের জন্য বিনোদনের সুযোগ তৈরি করে।
পার্কের ভেতরে ঢুকলেই চোখে পড়ে সবুজ ঘাসে মোড়া উন্মুক্ত জায়গা, গাছপালা আর নদীর কাছাকাছি প্রাকৃতিক পরিবেশ। হাঁটার জন্য রয়েছে নির্দিষ্ট পথ এবং বসার জন্য রয়েছে বেঞ্চ। বিকেলের দিকে এখানে অনেক পরিবার, তরুণ-তরুণী ও শিশুদের ভিড় দেখা যায়।
রাইডগুলোর মধ্যে রয়েছে নাগরদোলা, মিনি ট্রেন, বিভিন্ন ধরনের শিশুদের খেলার সরঞ্জাম এবং বিনোদনমূলক দোলনা। শিশুদের জন্য আলাদা খেলার জায়গা থাকায় পরিবার নিয়ে সময় কাটানোর জন্য জায়গাটি অনেকের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। খোলা আকাশের নিচে বসে নদীর হাওয়া উপভোগ করার সুযোগও এখানে পাওয়া যায়।
বুড়িগঙ্গা নদীর তীরঘেঁষা হওয়ায় পার্কের পরিবেশে একটি আলাদা স্বস্তি অনুভূত হয়। নদীর বাতাস ও সবুজ পরিবেশ শহরের গরম ও কোলাহল থেকে সাময়িক স্বস্তি দেয়। বিকেলের দিকে সূর্যাস্তের সময় নদীর পাড়ের দৃশ্য অনেক দর্শনার্থীর কাছে উপভোগ্য হয়ে ওঠে।
প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত পার্কটি দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকে। সাপ্তাহিক ছুটি ও ছুটির দিনগুলোতে এখানে দর্শনার্থীর সংখ্যা বেশি থাকে। পরিবার, বন্ধু কিংবা শিশুদের নিয়ে সময় কাটানোর জন্য পার্কটি রাজধানীর দক্ষিণাঞ্চলের একটি পরিচিত গন্তব্য।
গেন্ডারিয়া থানার কাছাকাছি হওয়ায় এই পার্কে যাতায়াতও তুলনামূলক সহজ। গেন্ডারিয়া থানা থেকে প্রায় ৭০০ মিটার দূরে অবস্থিত হওয়ায় হেঁটেও পার্কে পৌঁছানো সম্ভব।
কিভাবে যাবেন
ঢাকার যেকোনো স্থান থেকে গুলিস্তান বা যাত্রাবাড়ী এলাকায় এসে সেখান থেকে শ্যামপুরগামী বাস বা সিএনজি নেওয়া যায়। গেন্ডারিয়া থানার কাছাকাছি নেমে সেখান থেকে অল্প হাঁটলেই বুড়িগঙ্গা ইকো পার্কে পৌঁছানো যায়।
যা দেখবেন
পার্কের সবুজ পরিবেশ, হাঁটার পথ, বসার স্থান এবং বুড়িগঙ্গা নদীর তীরের দৃশ্য উপভোগ করা যায়। এছাড়া এখানে থাকা ২৪টিরও বেশি রাইড দর্শনার্থীদের জন্য আলাদা বিনোদনের সুযোগ তৈরি করে। শিশুদের জন্য খেলার বিভিন্ন রাইডও রয়েছে।
কোথায় খাবেন
পার্কের ভেতরে ও আশপাশে ছোট খাবারের স্টল রয়েছে, যেখানে হালকা নাশতা, চা ও ফাস্টফুড পাওয়া যায়। এছাড়া গেন্ডারিয়া, শ্যামপুর বা যাত্রাবাড়ী এলাকায় বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় দেশীয় খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে।
কোথায় থাকবেন
পার্কের আশপাশে বড় কোনো আবাসিক হোটেল নেই। তবে গুলিস্তান, মতিঝিল বা যাত্রাবাড়ী এলাকায় বিভিন্ন মানের হোটেল ও গেস্টহাউস পাওয়া যায়। রাজধানীর যেকোনো এলাকা থেকে একদিনের ভ্রমণে এখানে এসে ঘুরে দেখা সম্ভব।

