গাজীপুরের কালিয়াকৈর এলাকায় প্রায় ৪২ বিঘা জমির ওপর গড়ে ওঠা আনন্দ পার্ক রিসোর্ট নগর জীবনের একঘেয়েমি কাটাতে একটি সহজলভ্য বিনোদনকেন্দ্র।
সবুজে ঘেরা পরিবেশ, উন্মুক্ত প্রান্তর এবং বিনোদনের বিভিন্ন আয়োজন মিলিয়ে এটি দিনভিত্তিক ভ্রমণ কিংবা স্বল্প সময়ের অবকাশ কাটানোর জন্য উপযোগী একটি স্থান।
যা দেখবেন
আনন্দ পার্ক রিসোর্টের মূল আকর্ষণ এর বিস্তৃত সবুজ মাঠ ও সুপরিকল্পিত বিনোদন কাঠামো। প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে গাছপালায় ঘেরা খোলা জায়গা, যেখানে পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে নিরিবিলি সময় কাটানো যায়। শিশুদের জন্য আলাদা খেলার জোন রয়েছে, যেখানে দোলনা, স্লাইডসহ বিভিন্ন রাইড তাদের আনন্দ দেয়।
রিসোর্টে রয়েছে কৃত্রিম জলাধার ও ছোট লেক, যা পরিবেশে এনে দিয়েছে প্রশান্তির ছোঁয়া। নৌকাবিহারের সীমিত সুযোগও কিছু ক্ষেত্রে পাওয়া যায়। এছাড়া বিভিন্ন ভাস্কর্য, ফুলের বাগান এবং হাঁটার পথ মিলিয়ে পুরো এলাকা ঘুরে দেখার মতো একটি বিন্যাস তৈরি হয়েছে।
খোলা মাঠে খেলাধুলা কিংবা দলীয় আড্ডার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে। অনেকেই এখানে পিকনিক আয়োজন করেন, কারণ নির্দিষ্ট পিকনিক স্পট ও বসার ব্যবস্থা রয়েছে।
কোথায় থাকবেন
আনন্দ পার্ক রিসোর্ট মূলত ডে-ট্যুর বা দিনব্যাপী ভ্রমণের জন্য বেশি পরিচিত। তবে সীমিত পরিসরে থাকার ব্যবস্থাও রয়েছে। সাধারণ মানের কক্ষ বা ডরমিটরি টাইপ ব্যবস্থার মাধ্যমে স্বল্প সময়ের জন্য থাকা যায়।
যারা রাতযাপন করতে চান, তাদের জন্য আগে থেকে বুকিং নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বড় দলের জন্য আলাদা কটেজ বা গ্রুপ থাকার ব্যবস্থাও কিছু ক্ষেত্রে পাওয়া যায়, যা পিকনিক বা কর্পোরেট আউটিংয়ের জন্য উপযোগী।
কোথায় খাবেন
রিসোর্টের ভেতরে নিজস্ব খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে। সাধারণ দেশীয় খাবার থেকে শুরু করে হালকা নাস্তা—সবই পাওয়া যায় রিসোর্টের রেস্টুরেন্ট বা ফুড কর্নারে।
পিকনিকের জন্য আলাদা রান্নার স্পটও ব্যবহার করা যায়, যেখানে নিজস্ব ব্যবস্থায় রান্না করার সুযোগ থাকে। অনেক দর্শনার্থী নিজেরাই খাবার নিয়ে যান, কারণ খোলা পরিবেশে বসে খাওয়ার জন্য নির্ধারিত স্থান রয়েছে। দলগত আয়োজনের ক্ষেত্রে ক্যাটারিং সুবিধাও ব্যবহার করা যায়।
কীভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে আনন্দ পার্ক রিসোর্টে পৌঁছানো তুলনামূলক সহজ। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ধরে কালিয়াকৈর এলাকায় যেতে হয়। ব্যক্তিগত গাড়ি, মাইক্রোবাস কিংবা বাসে করে কালিয়াকৈর পৌঁছে সেখান থেকে অটোরিকশা বা লোকাল পরিবহনে রিসোর্টে যাওয়া যায়।
যারা নিজস্ব গাড়িতে যান, তাদের জন্য পার্কিং সুবিধা রয়েছে। সপ্তাহান্তে ভিড় বেশি থাকে, তাই সকালেই রওনা দেওয়া সুবিধাজনক।
বিনোদন ও আয়োজন
আনন্দ পার্ক রিসোর্টে পিকনিক, শিক্ষা সফর, কর্পোরেট আউটিংসহ বিভিন্ন আয়োজন নিয়মিত হয়। বড় খোলা মাঠ, নির্দিষ্ট পিকনিক জোন এবং সহজলভ্য সুযোগ-সুবিধার কারণে এটি দলীয় ভ্রমণের জন্য উপযোগী।
প্রাকৃতিক পরিবেশ, সরল বিনোদন কাঠামো এবং সহজ যোগাযোগব্যবস্থা—এই তিনের সমন্বয়ে আনন্দ পার্ক রিসোর্ট গাজীপুর অঞ্চলের একটি পরিচিত অবকাশকেন্দ্র হয়ে উঠেছে।

