ঢাকার লালমাটিয়ায় অবস্থিত ‘আপসাইড ডাউন’ রাজধানীর ব্যতিক্রমধর্মী একটি বিনোদন ও শিল্পভিত্তিক প্রদর্শনীকেন্দ্র। এটি মূলত একটি ইলিউশনাল আর্ট গ্যালারি, যেখানে বাস্তবতা ও ভ্রমের মিশেলে তৈরি করা হয়েছে নানা ধরনের শিল্পকর্ম ও সেট। ছবি তোলা, ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা নেওয়া এবং সময় কাটানোর জন্য জায়গাটি বিশেষ করে তরুণদের কাছে জনপ্রিয়।
২০১৯ সালে নির্মিত এই গ্যালারিটি দর্শনার্থীদের জন্য এক ধরনের ইন্টারঅ্যাকটিভ অভিজ্ঞতা তৈরি করে। এখানে ঢুকলে সাধারণ আর্ট গ্যালারির মতো শুধু ছবি দেখে চলে আসার বিষয় নয়; বরং প্রতিটি স্থাপনা এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে দর্শনার্থীরা তার অংশ হয়ে উঠতে পারেন।
ভিজ্যুয়াল ইলিউশন, অপটিক্যাল কৌশল এবং সৃজনশীল সেট ডিজাইনের মাধ্যমে গ্যালারির প্রতিটি কোণ ভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতা দেয়।
‘আপসাইড ডাউন’ নামটির মধ্যেই এর মূল বৈশিষ্ট্য ফুটে ওঠে। গ্যালারির অনেক সেট এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যেখানে মনে হয় সবকিছু উল্টো হয়ে আছে। কখনও মনে হয় মানুষ ছাদে দাঁড়িয়ে আছে, কখনও মনে হয় দেয়াল বেয়ে হাঁটছে। এই ভ্রমের পরিবেশ দর্শনার্থীদের কাছে এক ধরনের মজার অভিজ্ঞতা তৈরি করে এবং ছবি তোলার জন্যও এটি হয়ে উঠেছে আকর্ষণীয় জায়গা।
গ্যালারির ভেতরে বিভিন্ন থিমভিত্তিক রুম রয়েছে। প্রতিটি রুমে আলাদা আলাদা ইলিউশনাল সেট ও আর্ট ইনস্টলেশন তৈরি করা হয়েছে। কোথাও রয়েছে উল্টো ঘর, কোথাও আবার এমন সেট যেখানে ক্যামেরার অ্যাঙ্গেল ঠিক রাখলে ছবিতে অবাস্তব দৃশ্য তৈরি হয়। এই কারণেই অনেকেই এখানে এসে বিভিন্ন ভঙ্গিতে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেন।
প্রবেশমূল্য সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য ৪০০ টাকা। তবে শিশুদের জন্য আলাদা সুবিধা রয়েছে। তিন বছরের নিচের শিশুদের জন্য প্রবেশ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এবং ১০ বছরের নিচের শিশুদের জন্য টিকিটের মূল্য ২৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
গ্যালারিটি রবিবার ও সোমবার বন্ধ থাকে। সপ্তাহের অন্য দিনগুলোতে দুপুর ২টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকে। বিকেল থেকে সন্ধ্যার সময়টায় এখানে দর্শনার্থীর ভিড় বেশি দেখা যায়।
কিভাবে যাবেন
সৃজনশীল শিল্প, আলোকসজ্জা ও ক্যামেরা অ্যাঙ্গেলের সমন্বয়ে তৈরি এই ইলিউশনাল গ্যালারি ঢাকার বিনোদনস্থলগুলোর মধ্যে আলাদা বৈশিষ্ট্য বহন করে। যারা ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা নিতে চান বা সৃজনশীল ছবি তুলতে আগ্রহী, তাদের কাছে ‘আপসাইড ডাউন’ একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য।
ঢাকার যেকোনো স্থান থেকে ধানমন্ডি বা লালমাটিয়া এলাকায় বাস বা রাইড শেয়ারিং সেবার মাধ্যমে পৌঁছানো যায়। ধানমন্ডি ২৭ বা শ্যামলী এলাকায় নেমে সেখান থেকে রিকশা বা সিএনজি নিয়ে সহজেই লালমাটিয়ার ‘আপসাইড ডাউন’ গ্যালারিতে যাওয়া যায়।
যা দেখবেন
গ্যালারির ভেতরে বিভিন্ন ইলিউশনাল আর্ট সেট, উল্টো ঘর, থিমভিত্তিক রুম এবং অপটিক্যাল ইলিউশনের নানা প্রদর্শনী দেখা যায়। ক্যামেরার নির্দিষ্ট অ্যাঙ্গেল ব্যবহার করলে ছবিতে ভিন্নধর্মী দৃশ্য তৈরি হয়, যা দর্শনার্থীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণীয়।
কোথায় খাবেন
লালমাটিয়া ও ধানমন্ডি এলাকায় বিভিন্ন ক্যাফে ও রেস্তোরাঁ রয়েছে। সেখানে দেশি-বিদেশি খাবার, ফাস্টফুড ও কফি পাওয়া যায়। ধানমন্ডি ২৭ ও শ্যামলী এলাকার খাবারের দোকানগুলোও দর্শনার্থীদের জন্য সহজলভ্য।
কোথায় থাকবেন
লালমাটিয়া এলাকায় বড় আবাসিক হোটেল কম থাকলেও ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর ও শ্যামলী এলাকায় বিভিন্ন মানের হোটেল ও গেস্টহাউস পাওয়া যায়। রাজধানীর অন্য এলাকা থেকেও একদিনের ভ্রমণে এখানে এসে ঘুরে দেখা যায়।

