ঢাকার ধামরাই উপজেলার ষাইট্টা গ্রামে অবস্থিত ‘ষাইট্টা বটগাছ’ স্থানীয় ইতিহাস, লোকবিশ্বাস এবং প্রকৃতির এক অনন্য সমন্বয়। প্রায় ৫০০ বছরের পুরোনো এই গাছকে ঘিরে গড়ে উঠেছে নানা গল্প, ধর্মীয় আচার এবং কৌতূহলের পরিবেশ।
সময়ের দীর্ঘ পথ পেরিয়েও এই গাছ আজও স্থানীয় মানুষের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। ইতিহাস অনুযায়ী, বহু বছর আগে ধামরাইয়ের দেবীদাস পরিবার এখানে দুটি গাছ রোপণ করেন। একটি পাকুড় গাছ এবং একটি বটগাছ।
সময়ের সঙ্গে গাছ দুটি বিশাল আকার ধারণ করে এবং এলাকাটির একটি পরিচিত নিদর্শনে পরিণত হয়। স্থানীয়দের বিশ্বাস ও ধর্মীয় ব্যাখ্যায় পাকুড় গাছটিকে দেবতা এবং বটগাছটিকে দেবী হিসেবে মানা হয়। এই বিশ্বাস থেকেই গাছ দুটিকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানও গড়ে ওঠে।
গাছের বিস্তৃত শিকড় ও ডালপালা পুরো এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। বটগাছের ঝুলন্ত শিকড় মাটিতে নেমে এসে নতুন কাণ্ডের মতো দাঁড়িয়ে আছে, যা গাছটিকে আরও বিস্তৃত ও রহস্যময় রূপ দিয়েছে।
এত বছরের পুরোনো হওয়ায় গাছটির চারপাশে একটি স্বাভাবিকভাবেই প্রাচীন পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যা দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
এই স্থানটিতে পরবর্তীতে একটি কালী মন্দিরও নির্মাণ করা হয়েছে। মন্দিরটিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও পূজা অনুষ্ঠিত হয়। বিশেষ করে নির্দিষ্ট সময়গুলোতে এখানে ভক্তদের উপস্থিতি বাড়তে দেখা যায়।ষাইট্টা বটগাছকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে নানা লোককথাও প্রচলিত রয়েছে।
অনেকেই মনে করেন, গভীর রাতে এই গাছের আশপাশে অদ্ভুত শব্দ শোনা যায় বা রহস্যময় পরিবেশ তৈরি হয়। এসব কারণে অনেকের কাছে এটি ভৌতিক কৌতূহলেরও একটি বিষয় হয়ে উঠেছে। যদিও এসব বিশ্বাসের পেছনে নির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ নেই, তবুও লোকমুখে প্রচলিত গল্পগুলো জায়গাটিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে।
প্রকৃতির দিক থেকেও এই স্থানটি উল্লেখযোগ্য। বিশাল গাছের ছায়া, চারপাশের খোলা পরিবেশ এবং গ্রামীণ আবহ দর্শনার্থীদের কাছে আলাদা অভিজ্ঞতা তৈরি করে। যারা শহরের কোলাহল থেকে দূরে গিয়ে কিছুটা ভিন্ন পরিবেশ দেখতে চান, তাদের জন্য এটি একটি আগ্রহের জায়গা হতে পারে।
কিভাবে যাবেন
স্থানীয় ইতিহাস, ধর্মীয় বিশ্বাস এবং প্রকৃতির মিশেলে গড়ে ওঠা ষাইট্টা বটগাছ এখন ধামরাই অঞ্চলের একটি পরিচিত দর্শনীয় স্থান। গাছটির বয়স, আকৃতি এবং ঘিরে থাকা লোককথা অনেকের কাছে এটিকে বিশেষ আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
ঢাকা থেকে বাসে করে সাভার বা ধামরাই পর্যন্ত যাওয়া যায়। ধামরাই বাজারে নেমে সেখান থেকে স্থানীয় অটোরিকশা বা রিকশায় করে ষাইট্টা গ্রামে পৌঁছানো সম্ভব। স্থানীয়দের কাছে ‘ষাইট্টা বটগাছ’ বললেই তারা পথ দেখিয়ে দিতে পারবেন।
যা দেখবেন
প্রায় ৫০০ বছরের পুরোনো বটগাছ ও পাকুড় গাছ, তাদের বিস্তৃত শিকড় ও ডালপালার গঠন এবং গাছের আশপাশের প্রাচীন পরিবেশ দেখা যায়। এছাড়া এখানে নির্মিত কালী মন্দির এবং স্থানীয় ধর্মীয় কর্মকাণ্ডও দর্শনার্থীদের আগ্রহের বিষয়।
কোথায় খাবেন
ধামরাই বাজার এলাকায় বিভিন্ন ছোট রেস্তোরাঁ ও খাবারের দোকান রয়েছে। সেখানে দেশীয় খাবার, ভাত-তরকারি এবং হালকা নাশতার ব্যবস্থা পাওয়া যায়।
কোথায় থাকবেন
ষাইট্টা গ্রামে থাকার ব্যবস্থা নেই। তবে সাভার বা ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় আবাসিক হোটেল পাওয়া যায়। রাজধানী থেকে একদিনের ভ্রমণে সহজেই এখানে এসে ঘুরে দেখা সম্ভব।

