ঢাকার তেজগাঁওয়ের কাছাকাছি বিজয় সরণীতে অবস্থিত নভোথিয়েটার রাজধানীর অন্যতম বিজ্ঞানভিত্তিক বিনোদনকেন্দ্র। আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে মহাকাশ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের নানা বিষয়কে সাধারণ মানুষের কাছে সহজভাবে উপস্থাপন করার উদ্দেশ্যে এটি নির্মিত হয়।
বর্তমানে এটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার নামে পরিচিত হলেও নির্মাণের শুরুতে এটি ভাসানী নভোথিয়েটার নামে পরিচিত ছিল।
২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই নভোথিয়েটার বাংলাদেশের প্রথম প্ল্যানেটারিয়াম। গোলাকার গম্বুজাকৃতির এই স্থাপনাটির ভেতরে বিশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমে মহাকাশ, নক্ষত্রমণ্ডল ও সৌরজগতের নানা দৃশ্য দর্শকদের সামনে তুলে ধরা হয়। শিক্ষার্থী, গবেষক এবং সাধারণ দর্শনার্থীদের কাছে এটি একটি আকর্ষণীয় জায়গা হিসেবে পরিচিত।
নভোথিয়েটারের প্রধান আকর্ষণ হলো ডোম থিয়েটারে প্রদর্শিত মহাকাশভিত্তিক অনুষ্ঠান। এখানে বিশেষ প্রজেকশন প্রযুক্তির মাধ্যমে আকাশের নক্ষত্র, গ্রহ, গ্যালাক্সি এবং মহাকাশের বিভিন্ন ঘটনাকে বাস্তবের মতো উপস্থাপন করা হয়। দর্শনার্থীরা অন্ধকার গম্বুজের ভেতরে বসে যেন মহাকাশ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা লাভ করেন।
এছাড়া এখানে রয়েছে ফাইভ ডি মুভি থিয়েটার, যেখানে ত্রিমাত্রিক দৃশ্যের সঙ্গে কম্পন, বাতাস বা আলোর মতো বিশেষ প্রভাব যুক্ত হয়ে এক ধরনের বাস্তব অভিজ্ঞতা তৈরি করে। শিশু ও তরুণদের কাছে এই অংশটি বেশ জনপ্রিয়।
নভোথিয়েটারের আরেকটি আকর্ষণ হলো সিমুলেটর রাইড। এই রাইডে বসে দর্শনার্থীরা মহাকাশযান বা বিভিন্ন অভিযানের মতো ভার্চুয়াল অভিজ্ঞতা লাভ করতে পারেন। পাশাপাশি রয়েছে ফাইভ ডি ইন্টারেক্টিভ রাইড, যেখানে দর্শক নিজেও কিছুটা অংশগ্রহণ করতে পারেন।
বিজ্ঞানভিত্তিক বিভিন্ন ডিজিটাল এক্সিবিটও এখানে প্রদর্শিত হয়। বিভিন্ন স্ক্রিন ও ইন্টারঅ্যাকটিভ ডিসপ্লের মাধ্যমে মহাকাশ, গ্রহ-নক্ষত্র এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানের নানা তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। সৌরজগতের প্রতিরূপও এখানে দেখা যায়, যেখানে সূর্য এবং গ্রহগুলোর মডেল প্রদর্শনের মাধ্যমে তাদের অবস্থান ও গঠন সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
নভোথিয়েটারে প্রবেশের জন্য জনপ্রতি টিকিটের মূল্য ১০০ টাকা। দুই বছরের নিচের শিশুদের জন্য আলাদা টিকিটের প্রয়োজন হয় না। প্রতি বুধবার এটি বন্ধ থাকে।প্রদর্শনীর সময়সূচি সপ্তাহের দিন অনুযায়ী ভিন্ন। প্রতি শুক্রবার সকাল ১০টা, ১১টা ৩০ মিনিট, দুপুর ২টা ৩০ মিনিট, বিকেল ৪টা এবং ৫টা ৩০ মিনিটে প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। অন্য দিনগুলোতে সকাল ১০টা ৩০ মিনিট, দুপুর ১২টা, দুপুর ২টা, বিকেল ৩টা ৩০ মিনিট এবং বিকেল ৫টায় প্রদর্শনী হয়।
বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং বিনোদনের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা নভোথিয়েটার এখন শিক্ষামূলক ভ্রমণের একটি পরিচিত গন্তব্য। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সাধারণ দর্শনার্থী অনেকেই মহাকাশ সম্পর্কে জানার আগ্রহ নিয়ে এখানে আসেন।
কিভাবে যাবেন
ঢাকার যেকোনো স্থান থেকে বিজয় সরণী এলাকায় বাসে করে আসা যায়। ফার্মগেট বা আগারগাঁও মোড় থেকে রিকশা, সিএনজি বা হেঁটে সহজেই নভোথিয়েটারে পৌঁছানো সম্ভব। মেট্রোরেল ব্যবহার করলে ফার্মগেট বা আগারগাঁও স্টেশন থেকে অল্প সময়েই এখানে যাওয়া যায়।
যা দেখবেন
ডোম থিয়েটারের মহাকাশভিত্তিক প্রদর্শনী, ফাইভ ডি মুভি থিয়েটার, সিমুলেটর রাইড, ফাইভ ডি ইন্টারেক্টিভ রাইড এবং বিভিন্ন ডিজিটাল বৈজ্ঞানিক প্রদর্শনী দেখা যায়। এছাড়া সৌরজগতের প্রতিরূপ দর্শনার্থীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করে।
কোথায় খাবেন
বিজয় সরণী, ফার্মগেট ও আগারগাঁও এলাকায় বিভিন্ন রেস্তোরাঁ ও ফাস্টফুড দোকান রয়েছে। সেখানে দেশি-বিদেশি খাবার, ফাস্টফুড ও কফির ব্যবস্থা পাওয়া যায়।
কোথায় থাকবেন
নভোথিয়েটারের আশপাশে বড় আবাসিক হোটেল কম থাকলেও ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার ও আগারগাঁও এলাকায় বিভিন্ন মানের হোটেল ও গেস্টহাউস পাওয়া যায়। রাজধানীর অন্য এলাকা থেকেও একদিনের ভ্রমণে এখানে এসে ঘুরে দেখা সম্ভব।

