ঢাকার প্রাচীনতম ধর্মীয় স্থাপনাগুলোর মধ্যে অন্যতম ঢাকেশ্বরী মন্দির। পুরান ঢাকার এই ঐতিহাসিক মন্দিরটি শুধু হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উপাসনালয় নয়, বরং নগরীর ইতিহাস ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
ধারণা করা হয়, ১২শ শতকে সেন রাজবংশের রাজা বল্লাল সেন এই মন্দির নির্মাণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হল–এর দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে অবস্থিত এই মন্দির দীর্ঘ সময় ধরে ঢাকার ঐতিহ্য বহন করে আসছে।
যা দেখবেন
ঢাকেশ্বরী মন্দিরকে অনেকেই “ঢাকার অধিষ্ঠাত্রী দেবীর মন্দির” বলে উল্লেখ করেন। ‘ঢাকেশ্বরী’ শব্দের অর্থ ‘ঢাকার ঈশ্বরী’ বা ‘ঢাকার দেবী’। স্থানীয় জনশ্রুতি অনুযায়ী, রাজা বল্লাল সেন জঙ্গলের মধ্যে লুকিয়ে থাকা দেবীর মূর্তি আবিষ্কার করার পর এখানে মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর থেকেই এই স্থাপনাটি ধীরে ধীরে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
মন্দির প্রাঙ্গণে প্রবেশ করলে প্রথমেই চোখে পড়ে মূল মন্দির ভবন, যেখানে দেবী দুর্গার প্রতিমা স্থাপন করা আছে। প্রতিদিন এখানে পূজা-অর্চনা অনুষ্ঠিত হয় এবং ধর্মপ্রাণ ভক্তরা প্রার্থনায় অংশ নেন।
মন্দির কমপ্লেক্সের ভেতরে রয়েছে কয়েকটি ছোট মন্দির, প্রশস্ত প্রাঙ্গণ এবং পূজার জন্য নির্দিষ্ট স্থান। স্থাপত্যে প্রাচীন ধাঁচের ছাপ থাকলেও সময়ের সঙ্গে বিভিন্ন সংস্কার কাজ হয়েছে। মন্দিরের ভেতরের শান্ত পরিবেশ দর্শনার্থীদের কাছে আলাদা অনুভূতি তৈরি করে।
দুর্গাপূজা, কালীপূজা ও অন্যান্য ধর্মীয় উৎসবের সময় মন্দির প্রাঙ্গণে ভক্তদের ভিড় বেড়ে যায়। তখন এখানে ধর্মীয় অনুষ্ঠান, আরতি ও সাংস্কৃতিক আয়োজনও দেখা যায়। মন্দিরের আশপাশে পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী পরিবেশও দর্শনার্থীদের জন্য আলাদা আকর্ষণ হয়ে ওঠে।
কিভাবে যাবেন
ঢাকার যেকোনো এলাকা থেকে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে যাওয়া সহজ। গুলিস্তান, শাহবাগ বা নীলক্ষেত এলাকা থেকে রিকশা কিংবা অটোরিকশায় সরাসরি মন্দিরে পৌঁছানো যায়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় এলে সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে কিছু দূর এগোলেই মন্দিরের প্রবেশপথ দেখা যায়। ব্যক্তিগত গাড়ি বা রাইড শেয়ারিং সেবার মাধ্যমেও সহজেই এখানে যাওয়া সম্ভব।
কোথায় খাবেন
ঢাকেশ্বরী মন্দিরের আশপাশে পুরান ঢাকার অনেক পরিচিত খাবারের দোকান রয়েছে। নীলক্ষেত, বকশীবাজার কিংবা চকবাজার এলাকায় দেশি খাবারের বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট পাওয়া যায়।
এছাড়া পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী বিরিয়ানি, কাবাব বা মিষ্টান্নের দোকানও কাছাকাছি রয়েছে, যেখানে স্থানীয় স্বাদের খাবার সহজেই পাওয়া যায়।
কোথায় থাকবেন
মন্দিরটি শহরের কেন্দ্রস্থলে হওয়ায় আশপাশে বিভিন্ন মানের হোটেল রয়েছে। শাহবাগ, মতিঝিল কিংবা পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় মাঝারি মানের আবাসিক হোটেলে থাকার ব্যবস্থা পাওয়া যায়।
এছাড়া ধানমন্ডি, ফার্মগেট বা গুলশান এলাকায় আন্তর্জাতিক মানের হোটেলও রয়েছে। অনেক দর্শনার্থী দিনের ভ্রমণে এসে মন্দির দেখে আবার শহরের অন্যান্য দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখেন।

