যশোরে এমএম কলেজে বহিরাগতকে গণধোলাই, ক্যাম্পাসে তীব্র উত্তেজনা।
যশোরের সরকারি মাইকেল মধুসূদন (এমএম) কলেজে ছাত্রলীগের নাম ভাঙিয়ে শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে চন্দন নামের এক বহিরাগত যুবককে গণধোলাই দিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ: এই ঘটনাটি ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তার এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার পুনরাবৃত্তি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। আধিপত্যবাদ রুখতে শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
সামগ্রিক চিত্র: শনিবার গভীর রাতে মোটরসাইকেল নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশের পর চন্দন নামের ওই ব্যক্তি শিক্ষার্থীদের চাকু দেখিয়ে ভয় দেখান এবং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন। এর প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা তাকে আটক করে গণধোলাই দিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং রাতভর শহরে বিক্ষোভ মিছিল চলে।
অন্তরালে যা আছে: শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অভিযুক্ত চন্দন অতীতে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে টর্চার সেল পরিচালনার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। তবে অভিযুক্ত চন্দন নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেছেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে তার ওপর হামলা চালানো হয়েছে এবং তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন।
সংখ্যায়: ঘটনার প্রতিবাদে রাত ১২টার পর থেকে শতাধিক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাস থেকে হাসপাতাল চত্বর পর্যন্ত দফায় দফায় বিক্ষোভ মিছিল করেন। রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত দড়াটানা ও আশপাশের এলাকায় শিক্ষার্থীদের অবস্থান ও প্রতিবাদ অব্যাহত ছিল।
এরপর কী: কোতোয়ালি থানা পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। বর্তমানে চন্দন যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং পুলিশ তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা যাচাই করছে।
সংক্ষেপে: এমএম কলেজের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের দৌরাত্ম্য ও আধিপত্যবাদ নির্মূলে কঠোর অবস্থানের বার্তা দিয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

