বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী প্রাপ্য ৫ শতাংশ বিলম্বজনিত পাওনা পরিশোধ না করে উল্টো নতুন রিট দায়েরের প্রতিবাদে রাজশাহীতে মানববন্ধন করেছেন গ্রামীণফোনের সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
কেন এটা গুরুত্বপূর্ণ: দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে বকেয়া পাওনা আটকে থাকা এবং নতুন করে আইনি জটিলতা তৈরির ফলে গ্রামীণফোনের কয়েকশ সাবেক কর্মীর জীবনযাত্রা চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এই ঘটনা দেশের শ্রম আইনের প্রয়োগ এবং করপোরেট দায়বদ্ধতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
সামগ্রিক চিত্র: সোমবার রাজশাহীর সাগরপাড়া বটতলা মোড়ে ‘গ্রামীণফোন ৫% বিলম্ব বকেয়া আদায় ঐক্য পরিষদ’ এই কর্মসূচির আয়োজন করে। বক্তারা অভিযোগ করেন, ২০১১ সালে শিল্প প্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত এসআরও চ্যালেঞ্জ করে করা রিট প্রত্যাহার করলেও গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষ পাওনা পরিশোধের পরিবর্তে নতুন করে রিট দায়ের করে সময়ক্ষেপণ করছে।
অন্তরালে যা আছে: আন্দোলনরত কর্মীরা জানান, ন্যায্য দাবি আদায়ে রাজপথে নামলে তাদের ওপর প্রশাসনিক হয়রানি ও পুলিশি হস্তক্ষেপ চালানো হয়েছে। গভীর রাতে গ্রেপ্তার এবং মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়ে এই গণতান্ত্রিক আন্দোলন দমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
টেলিকম খাতের ওপর প্রভাব:
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, গ্রামীণফোনের এই আত্মঘাতী আইনি কৌশল কেবল সাবেক কর্মীদের নয়, বরং পুরো টেলিকম খাতের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ কর্মীদের শ্রম অধিকারের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এটি শ্রম আইনের মৌলিক অধিকার খর্ব করার একটি অপচেষ্টা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
এরপর কী: আন্দোলনকারীরা অবিলম্বে বকেয়া পাওনা পরিশোধ এবং তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। তারা সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন যেন শ্রম আইন ও সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
সংক্ষেপে: গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষ আইনি মারপ্যাঁচে ১৬ বছরের পাওনা আটকে রাখলেও, সাবেক কর্মীরা সংবিধান ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে শান্তিপূর্ণভাবে তাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এই ইস্যুতে এখন সরকারের হস্তক্ষেপই একমাত্র সমাধান হিসেবে দেখছেন ভুক্তভোগীরা।

