যশোরের ঝিকরগাছায় অপরিকল্পিত বাঁধ, পুকুর ও মাছের ঘেরের কারণে হরিহর নদ তার স্বাভাবিক প্রবাহ হারিয়েছে, যার ফলে সৃষ্ট ভয়াবহ জলাবদ্ধতায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন কয়েক গ্রামের হাজারো মানুষ।
কেন এটা গুরুত্বপূর্ণ: নদীর স্বাভাবিক গতিপথ রুদ্ধ হওয়ায় স্থানীয় কৃষকদের হাজার হাজার বিঘা বীজতলা ও ফসলি জমি তলিয়ে গেছে, যা এই অঞ্চলের খাদ্য নিরাপত্তা ও জনজীবনে চরম বিপর্যয় ডেকে এনেছে।
সামগ্রিক চিত্র: ঝিকরগাছা সদর ইউনিয়ন ও পৌরসভার লাউজানী, মল্লিকপুর, কাশিপুর, ঝাউদিয়া, পদ্মপুকুর, চাঁপাতলা, মির্জাপুর ও কীর্তিপুর গ্রামের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হরিহর নদের বিভিন্ন অংশ দখল করে মাছের ঘের তৈরি করা হয়েছে। নদীর বুকে আড়াআড়ি বাঁধ দেওয়ার ফলে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিস্তীর্ণ এলাকা স্থায়ী জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে।
এরপর কী: ভুক্তভোগী এলাকাবাসী নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে অবৈধ বাঁধ অপসারণ ও নদ খননের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন। দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ না করা হলে এই জলাবদ্ধতা আরও ভয়াবহ রূপ নেওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
সংখ্যায়: ঝিকরগাছা সদর ইউনিয়নের লাউজানী, মল্লিকপুর, কাশিপুর এবং যশোর সদরের ছোট মেঘলা, বড় মেঘলা ও করিচা গ্রামের কয়েক হাজার কৃষকের বীজতলা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, নদীর প্রবাহ বন্ধ হওয়ায় কয়েক হাজার মানুষ বর্তমানে পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
অন্তরালে যা আছে: স্থানীয় প্রভাবশালীরা নদীর বুকে আড়াআড়ি বাঁধ দিয়ে পুকুর ও মাছের ঘের তৈরি করলেও প্রশাসন কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। অনেক স্থানে পানি নিষ্কাশনের জন্য ন্যূনতম কোনো খাল বা পথ রাখা হয়নি, ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই নদীপাড়ের ঘরবাড়ি ও ফসলি মাঠ পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে।
সংক্ষেপে: প্রকৃতির স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট করে গড়ে তোলা মাছের ঘের ও অবৈধ দখলের কারণে হরিহর নদ এখন অভিশাপে পরিণত হয়েছে, যা নিরসনে জরুরি ভিত্তিতে খনন ও দখলমুক্ত অভিযান প্রয়োজন।

