রোববার একদিনেই আরও ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে হাম ও এর উপসর্গে, দেশজুড়ে মোট মৃত্যু পৌঁছেছে ৭৫৮-তে।
কেন এটা গুরুত্বপূর্ণ: এটি নিছক একটি রোগের প্রাদুর্ভাব নয় — গত কয়েক দশকের মধ্যে বাংলাদেশে হামের সবচেয়ে ভয়াবহ ও দীর্ঘস্থায়ী সংকট এটি। ভুক্তভোগীদের সিংহভাগই পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু, এবং বিশেষজ্ঞদের মতে এই মৃত্যুর সংখ্যা মূলত প্রতিরোধযোগ্য ছিল।
সামগ্রিক চিত্র: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোববারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৬৯৬ জনের শরীরে হাম বা এর উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে।
- গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারাদেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা লক্ষাধিক ছাড়িয়ে গেছে, এবং হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন প্রায় ৯৪ হাজার শিশু।
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্তদের প্রায় ৮০ শতাংশই পাঁচ বছরের নিচে, এবং এক-তৃতীয়াংশ নয় মাসের কম বয়সী শিশু — যারা এখনো নিয়মিত টিকার আওতায় আসেনি।
অন্তরালে যা আছে: স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০২৪ সালে নির্ধারিত জাতীয় হাম টিকাদান কর্মসূচি সময়মতো সম্পন্ন না হওয়া এবং টিকা সংগ্রহ ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতাই এই সংকটের মূল কারণ। আক্রান্ত শিশুদের বড় অংশই ছিল টিকাবিহীন বা অপুষ্টিতে ভোগা। জাতিসংঘের শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আগেই সতর্ক করেছিল যে লাখো শিশু নিয়মিত টিকার বাইরে রয়ে গেছে।
এরপর কী: সরকার ইতিমধ্যে ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের জন্য জরুরি গণটিকাদান কর্মসূচি চালু করেছে, যা উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোতে ১০ বছর বয়স পর্যন্ত সম্প্রসারিত হয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হাসপাতালে আইসোলেশন ইউনিট চালু ও ভিটামিন এ সরবরাহ জোরদার করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, টিকাদান কর্মসূচির প্রভাব দৃশ্যমান হতে আরও কিছু সময় লাগবে।
সংক্ষেপে: চার মাস ধরে চলা এই সংকট বাংলাদেশের শিশু স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার একটি বড় দুর্বলতা উন্মোচন করেছে – এবং বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, ভবিষ্যতে টিকাদান ব্যবস্থা শক্তিশালী না হলে এ ধরনের প্রাদুর্ভাব ফিরে আসতে পারে ও চলমান সংকটে হামে শিশুর মৃত্যু আরো বৃদ্ধি পাবে।

