চট্টগ্রাম শহর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে সীতাকুণ্ডের পাহাড়ি অঞ্চলে অবস্থিত সীতাকুণ্ড ইকো পার্ক ও বোটানিক্যাল গার্ডেন প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এক অনন্য ভ্রমণস্থল।
সবুজ পাহাড়, ঝরনার কলকল ধ্বনি এবং বিরল উদ্ভিদের সমাহারে এই পার্কটি দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় ইকোট্যুরিজম কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। পাহাড়ি পথ বেয়ে ঝরনার দিকে এগোতে এগোতে যে শীতল বাতাস আর সজীব প্রকৃতির স্পর্শ পাওয়া যায়, তা নগর জীবনের ক্লান্তি দূর করে দেয় সহজেই।
বাংলাদেশ বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে গড়ে ওঠা এই পার্কে রয়েছে সমৃদ্ধ উদ্ভিদ বৈচিত্র্য। বোটানিক্যাল গার্ডেনে বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালার পাশাপাশি প্রায় ৫০ প্রজাতির অর্কিড সংরক্ষণ করা হয়েছে, যা প্রকৃতিপ্রেমী ও গবেষকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণীয়।
পাহাড়ের ঢালে ছড়িয়ে থাকা সবুজ বনভূমি ও নানান প্রজাতির গাছপালা এই পার্ককে দিয়েছে এক অনন্য প্রাকৃতিক আবহ।
সীতাকুণ্ড ইকো পার্কের প্রধান আকর্ষণ দুটি ঝরনা: সহস্র ধারা ও সপ্ত ধারা। বর্ষা মৌসুমে এই ঝরনাগুলো সবচেয়ে বেশি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
পাহাড়ের গা বেয়ে নেমে আসা সাদা পানির ধারাগুলো যেন প্রকৃতির এক অপূর্ব দৃশ্যপট তৈরি করে। সহস্র ধারার ঝরনায় পানি নেমে আসে অসংখ্য ছোট ছোট ধারায়, যা দেখতে সত্যিই সহস্র ধারার মতো মনে হয়।
অন্যদিকে সপ্ত ধারা ঝরনায় পাহাড়ের সাতটি ধাপ বেয়ে পানি নিচে নেমে আসে, যা দর্শনার্থীদের কাছে আলাদা এক সৌন্দর্য তৈরি করে।
প্রকৃতির মাঝে সময় কাটাতে, ট্রেকিং করতে কিংবা ফটোগ্রাফি করতে অনেকেই এখানে ভিড় করেন। পাহাড়ি পথ ধরে ঝরনার দিকে হাঁটতে হাঁটতে চারপাশের ঘন সবুজ বন আর পাখির ডাক ভ্রমণকে করে তোলে আরও উপভোগ্য। প্রবেশমূল্য মাত্র ৬০ টাকা হওয়ায় এটি সাধারণ ভ্রমণকারীদের কাছেও সহজলভ্য একটি পর্যটনকেন্দ্র।
কিভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী বাস বা ট্রেনে চট্টগ্রাম শহরে পৌঁছে সেখান থেকে সীতাকুণ্ডের উদ্দেশ্যে বাস, মাইক্রোবাস বা সিএনজি অটোরিকশা পাওয়া যায়। চট্টগ্রাম শহর থেকে দূরত্ব প্রায় ৩৫ কিলোমিটার।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ধরে সীতাকুণ্ড বাজারে নেমে সেখান থেকে স্থানীয় পরিবহনে ইকো পার্কে পৌঁছানো যায়।
যা দেখবেন
ইকো পার্কের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ সহস্র ধারা ও সপ্ত ধারা ঝরনা। বর্ষাকালে ঝরনাগুলোর সৌন্দর্য সবচেয়ে বেশি ফুটে ওঠে।
এছাড়া পার্কের বোটানিক্যাল গার্ডেনে সংরক্ষিত প্রায় ৫০ প্রজাতির অর্কিড ও নানা ধরনের বিরল গাছপালা দেখা যায়। পাহাড়ি পথ ধরে হাঁটার অভিজ্ঞতা এবং চারপাশের সবুজ বনভূমির সৌন্দর্যও ভ্রমণকে করে তোলে বিশেষ।
কোথায় খাবেন
সীতাকুণ্ড বাজার ও আশপাশের এলাকায় ছোট-বড় বেশ কিছু স্থানীয় খাবারের হোটেল রয়েছে। সেখানে ভাত, মাছ, মাংসসহ দেশীয় বিভিন্ন খাবার পাওয়া যায়। এছাড়া চট্টগ্রাম শহরে ফিরে গেলে বিভিন্ন মানসম্মত রেস্টুরেন্টে খাবারের ভালো ব্যবস্থা পাওয়া যায়।
কোথায় থাকবেনসীতাকুণ্ড এলাকায় কিছু সাধারণ মানের আবাসিক হোটেল থাকলেও অধিকাংশ পর্যটক চট্টগ্রাম শহরেই রাতযাপন করেন। চট্টগ্রামে বিভিন্ন মানের হোটেল ও গেস্টহাউস রয়েছে, যেখানে বাজেট অনুযায়ী থাকার ব্যবস্থা পাওয়া যায়। তাই দিনের ভ্রমণ শেষে শহরে ফিরে থাকা বেশ সুবিধাজনক।

