গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার অদূরে বিস্তৃত এক বিশাল এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে আছে একডালা দুর্গের ধ্বংসাবশেষ। এটি মধ্যযুগীয় বাংলার এক গুরুত্বপূর্ণ প্রত্ননিদর্শন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
প্রায় ১০ বর্গকিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত এই দুর্গের নির্মাণকাল আনুমানিক ৬০০ খ্রিস্টাব্দ বলে ধারণা করা হয়। সময়ের প্রবাহে এর অধিকাংশ স্থাপনা ভেঙে পড়লেও এখনো মাটির উঁচু ঢিবি, পরিখার চিহ্ন এবং ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ইটের গাঁথুনি অতীতের এক শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ইঙ্গিত দেয়।
ঐতিহাসিকদের মতে, একডালা দুর্গ ছিল একটি কৌশলগত সামরিক ঘাঁটি। এর চারপাশে প্রাকৃতিক জলাভূমি ও পরিখা থাকার কারণে এটি ছিল প্রতিরক্ষার জন্য অত্যন্ত উপযোগী।
স্থানীয় লোককথায় দুর্গটিকে ঘিরে নানা কিংবদন্তি প্রচলিত আছে, যা এই স্থানকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে। আজও দুর্গের বিস্তৃত এলাকায় হাঁটলে অতীতের যুদ্ধ, রাজনীতি ও জনজীবনের ছাপ যেন অনুভব করা যায়।
কিভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে একডালা দুর্গে যেতে হলে প্রথমে গাজীপুর চৌরাস্তা পৌঁছাতে হবে। রাজধানী থেকে বাস বা প্রাইভেট কারে সহজেই চৌরাস্তা যাওয়া যায়।
সেখান থেকে কাপাসিয়ার উদ্দেশ্যে স্থানীয় বাস, মাইক্রোবাস বা সিএনজি পাওয়া যায়। কাপাসিয়া উপজেলা সদর থেকে অল্প দূরত্বেই অবস্থিত একডালা দুর্গ। স্থানীয়দের সহায়তা নিলে সহজেই নির্দিষ্ট স্থানটি খুঁজে পাওয়া যায়।
যা দেখবেন
একডালা দুর্গের প্রধান আকর্ষণ এর বিস্তৃত ধ্বংসাবশেষ। মাটির উঁচু প্রাচীরসদৃশ অংশ, পুরনো ইটের গাঁথুনি এবং পরিখার চিহ্ন এখনো স্পষ্টভাবে চোখে পড়ে।
বর্ষাকালে আশপাশের জলাভূমি পানিতে ভরে গেলে দুর্গটির প্রাচীন প্রতিরক্ষাব্যবস্থার বাস্তব চিত্র যেন জীবন্ত হয়ে ওঠে।
এছাড়া চারপাশের সবুজ প্রকৃতি, গ্রামীণ পরিবেশ এবং নির্জনতা ভ্রমণপিপাসুদের জন্য এক ধরনের প্রশান্তি বয়ে আনে। ইতিহাসপ্রেমীদের জন্য এটি এক অনন্য অভিজ্ঞতা, যেখানে প্রতিটি পদক্ষেপে অতীতের স্পর্শ পাওয়া যায়।
কোথায় খাবেন
কাপাসিয়া উপজেলা সদরে বেশ কিছু স্থানীয় হোটেল ও রেস্তোরাঁ রয়েছে, যেখানে দেশীয় খাবার সহজলভ্য। ভাত, মাছ, মাংস ও ভর্তার সাধারণ আয়োজনই এখানে বেশি জনপ্রিয়।
এছাড়া গাজীপুর চৌরাস্তা এলাকায় বিভিন্ন মানের রেস্টুরেন্ট পাওয়া যায়, যেখানে তুলনামূলক ভালো মানের খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে। ভ্রমণের সময় স্থানীয় খাবারের স্বাদ নেওয়াই হতে পারে বাড়তি আকর্ষণ।
কোথায় থাকবেন
একডালা দুর্গ এলাকায় সরাসরি থাকার তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। তবে কাপাসিয়া ও আশপাশের এলাকায় কয়েকটি রিসোর্ট ও গেস্টহাউস রয়েছে, যেখানে রাতযাপনের সুযোগ পাওয়া যায়।
গাজীপুর চৌরাস্তা বা রাজেন্দ্রপুর এলাকায় আরও উন্নতমানের রিসোর্ট ও হোটেল রয়েছে, যেগুলো পর্যটকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। প্রয়োজন অনুযায়ী আগে থেকে বুকিং দিয়ে গেলে ভ্রমণ আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে।
একডালা দুর্গ কেবল একটি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান নয়। এটি বাংলার প্রাচীন ইতিহাস, প্রতিরক্ষা কৌশল এবং গ্রামীণ ঐতিহ্যের এক অনন্য মেলবন্ধন। সময়ের ক্ষয়ে ধ্বংসপ্রাপ্ত হলেও এর নীরবতা এখনো অতীতের গল্প বলে যায়, যা প্রতিটি দর্শনার্থীকে ভাবনায় ডুবিয়ে দেয়।

