গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার নিরিবিলি পরিবেশে দাঁড়িয়ে থাকা বলিয়াদী জমিদারবাড়ি যেন ইতিহাসের এক জীবন্ত দলিল।
প্রায় ৪০০ বছরের পুরোনো এই স্থাপনা নির্মিত হয়েছিল ১৬১২ সালে, মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর-এর শাসনামলে। বলিয়াদী এস্টেটের প্রথম কর্ণধার ছিলেন ইসলামের প্রথম খলিফা আবু বকর সিদ্দিক (র)-এর ৩৭তম বংশধর সাদউদ্দিন সিদ্দিক। সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় গড়ে ওঠা এই জমিদারবাড়ি আজও অতীতের গৌরবময় ইতিহাসের কথা বলে।
স্থাপনাটির স্থাপত্যে মুঘল ও উপমহাদেশীয় ঐতিহ্যের মিশ্রণ দেখা যায়। বিশাল আঙিনা, উঁচু বারান্দা, খিলানযুক্ত দরজা ও জানালার নকশা সবকিছুতেই রাজকীয়তার ছাপ স্পষ্ট।
সময়ের প্রবাহে অনেক অংশ ক্ষয়প্রাপ্ত হলেও এখনও মূল কাঠামোর দৃঢ়তা দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। পুরোনো দেয়ালের শ্যাওলা, ভাঙাচোরা ইট আর নীরবতা মিলে যেন এক রহস্যময় আবহ তৈরি করেছে, যা ইতিহাসপ্রেমীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণীয়।
যা দেখবেন
বলিয়াদী জমিদারবাড়িতে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে বিস্তীর্ণ প্রাঙ্গণ এবং মূল ভবনের ধ্বংসাবশেষ। প্রধান ভবনের খিলান ও বারান্দার নকশা এখনও দৃষ্টিনন্দন।
আশপাশে রয়েছে পরিত্যক্ত দালান, পুরোনো বৃক্ষ ও খোলা মাঠ, যা জায়গাটিকে আরও প্রাচীন আবহ দেয়। ফটোগ্রাফি বা ডকুমেন্টারি নির্মাণের জন্য এটি একটি আদর্শ স্থান। বিকেলের নরম আলোয় জমিদারবাড়ির দৃশ্য বিশেষভাবে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।
কিভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে গাজীপুরের কালিয়াকৈরগামী যে কোনো বাসে করে সহজেই যাওয়া যায়। গাবতলী বা মহাখালী থেকে কালিয়াকৈরের উদ্দেশ্যে নিয়মিত বাস ছেড়ে যায়।
কালিয়াকৈর বাজারে নেমে সেখান থেকে স্থানীয় অটোরিকশা বা ভ্যানযোগে বলিয়াদী এলাকায় পৌঁছানো যায়। ব্যক্তিগত গাড়িতে গেলে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ধরে সহজেই গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব।
কোথায় খাবেন
কালিয়াকৈর বাজার ও আশপাশে বেশ কিছু স্থানীয় হোটেল ও রেস্তোরাঁ রয়েছে, যেখানে দেশীয় খাবার পাওয়া যায়। ভাত, মাছ, মাংস ও ভর্তা জাতীয় খাবার সহজলভ্য।
বড় কোনো রেস্টুরেন্ট না থাকলেও সাধারণ মানের খাবারের জন্য এসব জায়গা যথেষ্ট। চাইলে ঢাকা থেকে খাবার সঙ্গে নিয়েও যাওয়া যেতে পারে।
কোথায় থাকবেন
বলিয়াদী এলাকায় উন্নত আবাসনের ব্যবস্থা সীমিত। তাই দিনভিত্তিক ভ্রমণই সবচেয়ে উপযোগী। তবে প্রয়োজনে গাজীপুর শহরে কিছু মাঝারি মানের হোটেল পাওয়া যায়, যেখানে রাতযাপন করা সম্ভব। এছাড়া ঢাকায় ফিরে থাকা সবচেয়ে সুবিধাজনক, কারণ দূরত্ব তুলনামূলক কম।
ইতিহাস, স্থাপত্য ও নিভৃত প্রকৃতির মিশেলে বলিয়াদী জমিদারবাড়ি এক অনন্য ভ্রমণগন্তব্য। সময়ের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এই স্থাপনা শুধু একটি পুরোনো বাড়ি নয়, বরং একটি যুগের প্রতিচ্ছবি, যেখানে অতীতের গৌরব, পতন এবং স্মৃতির ছায়া একসঙ্গে মিশে আছে।

