গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার নাগরী ইউনিয়নে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে নীরবে দাঁড়িয়ে আছে সেন্ট নিকোলাস চার্চ। এটি খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান।
১৯৬৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই চার্চটি শুধু ধর্মীয় দিক থেকেই নয়, স্থাপত্যশৈলী ও পরিবেশগত সৌন্দর্যের দিক থেকেও অনন্য। দেশের বৃহত্তম মিশনারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে এটি দীর্ঘদিন ধরে ধর্মপ্রাণ মানুষের পাশাপাশি ভ্রমণপিপাসুদেরও আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।
সেমি-গোথিক স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত চার্চটির গঠনশৈলী বেশ দৃষ্টিনন্দন। প্রবেশমুখেই চোখে পড়ে যিশু খ্রিস্টের একটি মূর্তি, যা দর্শনার্থীদের এক ধরনের প্রশান্ত অনুভূতিতে আচ্ছন্ন করে।
চার্চটির ভেতরে রয়েছে ১২টি সুদৃঢ় পিলার, যা পুরো স্থাপনাটিকে এক ধরনের ঐতিহ্যবাহী গাম্ভীর্য দিয়েছে। উঁচু ছাদ, লম্বা জানালা এবং আলো-বাতাসের স্বাভাবিক প্রবাহ এই স্থাপনাটিকে আরও বেশি প্রশস্ত ও শান্তিময় করে তোলে।
শীতলক্ষ্যা নদীর তীরবর্তী অবস্থান চার্চটির সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। নদীর বাতাস, সবুজে ঘেরা পরিবেশ এবং নীরবতা মিলিয়ে এটি হয়ে উঠেছে এক নিখুঁত ধ্যানমগ্নতার জায়গা।
বিশেষ করে বড়দিন বা অন্যান্য ধর্মীয় উৎসবের সময় এখানে ভিড় জমে হাজারো মানুষের। তখন চার্চ প্রাঙ্গণ হয়ে ওঠে উৎসবমুখর, তবে বছরের অন্যান্য সময়েও এখানে শান্তির খোঁজে অনেকেই আসেন।
যা দেখবেন
চার্চের মূল প্রার্থনাকক্ষটি সবচেয়ে আকর্ষণীয়। এখানে ধর্মীয় অনুষ্ঠান ছাড়াও স্থাপত্যের সূক্ষ্ম কারুকাজ নজর কাড়ে।
প্রবেশদ্বারের যিশুর মূর্তিটি দর্শনার্থীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণের বস্তু। চারপাশের সবুজ প্রাকৃতিক পরিবেশ, নদীর ধারে হাঁটা এবং নিরিবিলি সময় কাটানোর সুযোগ, সব মিলিয়ে এটি একটি পরিপূর্ণ অভিজ্ঞতা দেয়।
কিভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে সড়কপথে সহজেই গাজীপুর হয়ে কালীগঞ্জে যাওয়া যায়। গুলিস্তান বা যাত্রাবাড়ী থেকে বাস কিংবা প্রাইভেট কারে কালীগঞ্জ পৌঁছে সেখান থেকে স্থানীয় পরিবহনে নাগরী ইউনিয়নে যেতে হবে।
এছাড়া ট্রেনে নরসিংদী বা টঙ্গী পর্যন্ত গিয়ে সেখান থেকেও সড়কপথে আসা যায়। ব্যক্তিগত যানবাহনে গেলে পথ আরও সুবিধাজনক।
- কোথায় খাবেন
চার্চের আশপাশে বড় কোনো রেস্টুরেন্ট নেই। তবে কালীগঞ্জ বাজার এলাকায় স্থানীয় হোটেল ও খাবারের দোকান রয়েছে, যেখানে দেশি খাবার পাওয়া যায়। সাধারণ মানের ভাত, মাছ, মাংস বা নাস্তার জন্য এসব জায়গাই ভরসা।
কোথায় থাকবেন
নাগরী ইউনিয়নে থাকার মতো উন্নত আবাসন ব্যবস্থা নেই। থাকার জন্য গাজীপুর শহর বা ঢাকায় ফিরে যাওয়াই ভালো। গাজীপুর শহরে কিছু মাঝারি মানের হোটেল পাওয়া যায়, যেখানে স্বল্প খরচে থাকা সম্ভব।
শহরের কোলাহল থেকে কিছুটা দূরে, প্রকৃতি আর আধ্যাত্মিকতার সংমিশ্রণে গড়ে ওঠা সেন্ট নিকোলাস চার্চ ভ্রমণকারীদের জন্য এক ভিন্ন অভিজ্ঞতার নাম। ইতিহাস, ধর্মীয় গুরুত্ব ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সব মিলিয়ে এটি গাজীপুরের এক অনন্য দর্শনীয় স্থান।

