ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও সমৃদ্ধ বনভূমির একটি, যা গাজীপুরের জয়দেবপুরে অবস্থিত। প্রায় ৫০২২ হেক্টর বিস্তৃত এই উদ্যানটি ১৯৮২ সালে জাতীয় উদ্যানের মর্যাদা লাভ করে।
রাজধানীর কোলাহল থেকে স্বল্প দূরত্বে অবস্থিত হওয়ায় প্রকৃতিপ্রেমী ও ভ্রমণপিপাসুদের কাছে এটি একটি জনপ্রিয় গন্তব্য।
ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের মূল আকর্ষণ এর বিস্তীর্ণ শালবন। এখানে রয়েছে প্রায় ২২১ প্রজাতির বৃক্ষ, যা এই বনাঞ্চলকে দিয়েছে এক অনন্য জীববৈচিত্র্য।
একই সঙ্গে ৬৪ প্রজাতির প্রাণীর বসবাস এই উদ্যানে, যার মধ্যে হরিণ, বানর, শিয়ালসহ নানা বন্যপ্রাণী চোখে পড়তে পারে। বনভূমির গভীরে গেলে প্রকৃতির নির্জনতা আর পাখির কলতান এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা এনে দেয়।
উদ্যানের ভেতরে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে হাতির টেরাকোটা ভাস্কর্য, যা দর্শনার্থীদের জন্য একটি আকর্ষণীয় ফটোস্পট। এছাড়া এখানে রয়েছে ৩১টি পিকনিক স্পট, যা পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য আদর্শ। ১৯টি মনোরম কটেজ এবং একটি অত্যাধুনিক রেস্ট হাউজ ভ্রমণকারীদের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করে। বোটিং সুবিধা এবং ওয়াচ টাওয়ার থেকে চারপাশের সবুজ বনভূমি উপভোগ করা যায় ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে।
উদ্যানটি সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত খোলা থাকে। প্রবেশমূল্য জনপ্রতি ২০ টাকা। ব্যক্তিগত যানবাহনের ক্ষেত্রে কার, মাইক্রোবাস ও বাসের জন্য যথাক্রমে ৬০, ১০০ ও ২০০ টাকা ফি নির্ধারিত। বড় কোনো আয়োজন বা ইভেন্ট করতে চাইলে রাজধানীর মহাখালীর বন বিভাগ কার্যালয় অথবা রাজেন্দ্রপুর জাতীয় উদ্যান কার্যালয় থেকে আগাম বুকিং করতে হয়।
কিভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে গাজীপুরের জয়দেবপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত বাস বা ব্যক্তিগত গাড়িতে সহজেই যাওয়া যায়। সেখান থেকে অটোরিকশা বা স্থানীয় পরিবহনে করে ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানে পৌঁছানো সম্ভব। গাজীপুর সদর থেকে ভাওয়াল গজারির দূরত্ব মাত্র ৩ কিলোমিটার, ফলে যাতায়াত বেশ সুবিধাজনক।
যা দেখবেন
প্রাকৃতিক শালবন, বন্যপ্রাণীর বিচরণ, পাখির কলতান—সব মিলিয়ে প্রকৃতির এক নির্জন সৌন্দর্য উপভোগ করা যায় এখানে।
হাতির টেরাকোটা ভাস্কর্য, ওয়াচ টাওয়ার থেকে সবুজ বনভূমির দৃশ্য, বোটিং সুবিধা এবং পিকনিক স্পটগুলো ভ্রমণকে করে তোলে আরও উপভোগ্য।
- কোথায় খাবেন
উদ্যানের ভেতরে নির্দিষ্ট কোনো রেস্তোরাঁ না থাকায় দর্শনার্থীরা সাধারণত নিজস্ব খাবার সঙ্গে নিয়ে যান। তবে জয়দেবপুর চৌরাস্তা ও গাজীপুর শহরে বেশ কিছু ভালো মানের হোটেল ও রেস্তোরাঁ রয়েছে, যেখানে দেশি খাবারের ব্যবস্থা পাওয়া যায়।
কোথায় থাকবেন
ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানে থাকা জন্য রয়েছে ১৯টি কটেজ এবং একটি আধুনিক রেস্ট হাউজ, যা আগাম বুকিংয়ের মাধ্যমে ব্যবহার করা যায়।
এছাড়া গাজীপুর শহরে বিভিন্ন মানের আবাসিক হোটেলও রয়েছে, যেখানে রাতযাপনের সুবিধা পাওয়া যায়।
প্রাকৃতিক পরিবেশ, সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং পরিবারসহ অবকাশ কাটানোর উপযোগী সুযোগ-সুবিধার কারণে ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ইকো-ট্যুরিজম স্পট হিসেবে পরিচিত।

