গাজীপুরের চন্দ্রা থেকে ৪ কিলোমিটার দূরে কালামপুর গ্রামে গড়ে উঠেছে সোহাগ পল্লী। নগরজীবনের ক্লান্তি থেকে মুক্তি খোঁজার জন্য একটি পরিচ্ছন্ন ও পরিকল্পিত অবকাশ কেন্দ্র এটি।
প্রায় ১১ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এই পল্লীটি একদিকে প্রকৃতির স্নিগ্ধতা, অন্যদিকে আধুনিক অবকাঠামোর সমন্বয়ে তৈরি হয়েছে একটি পূর্ণাঙ্গ রিসোর্ট অভিজ্ঞতা।
প্রবেশমুখ থেকেই চোখে পড়ে সবুজে ঘেরা বিস্তৃত প্রাঙ্গণ। সুচারুভাবে সাজানো বাগান, ছায়াঘেরা পথ এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ দর্শনার্থীদের প্রথমেই স্বস্তি দেয়। ভেতরে রয়েছে একটি কৃত্রিম লেক, যার শান্ত পানিতে চারপাশের সবুজের প্রতিবিম্ব পড়ে এক ধরনের নান্দনিক দৃশ্য তৈরি করে।
লেকের পাশে বসে সময় কাটানো কিংবা ছবি তোলা—দুটিই এখানে সমান উপভোগ্য।
সোহাগ পল্লীর অন্যতম আকর্ষণ হলো এর কটেজগুলো। পরিবার বা বন্ধুদের নিয়ে নিরিবিলি সময় কাটানোর জন্য এগুলো উপযোগী করে সাজানো। কটেজগুলোর নকশায় গ্রামবাংলার ছোঁয়া রাখা হয়েছে, যা শহুরে জীবনের বাইরে একটি ভিন্ন অভিজ্ঞতা দেয়।
এছাড়া খোলা জায়গায় বসার ব্যবস্থা, শিশুদের জন্য খেলার স্থান এবং হাঁটার পথ, সব মিলিয়ে জায়গাটি একটি পারিবারিক বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে।
এখানে রয়েছে ‘মেজবান’ নামের দোতলা রেস্তোরাঁ, যা সোহাগ পল্লীর আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক। রেস্তোরাঁটি আধুনিক সাজে নির্মিত হলেও এর পরিবেশে রয়েছে গ্রামীণ আবহের ছাপ।
দর্শনার্থীরা এখানে বসে দেশীয় বিভিন্ন স্বাদের খাবার উপভোগ করতে পারেন। পুরো রিসোর্টে প্রবেশমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২০০ টাকা, যা এই ধরনের পরিবেশ ও সুবিধার তুলনায় গ্রহণযোগ্য।
প্রকৃতির কাছাকাছি সময় কাটাতে চাইলে, একদিনের স্বল্প দূরত্বের ভ্রমণের জন্য সোহাগ পল্লী একটি উপযুক্ত গন্তব্য। বিশেষ করে ছুটির দিনে পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য এটি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
কিভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে টাঙ্গাইল বা ময়মনসিংহগামী যেকোনো বাসে চড়ে চন্দ্রা পর্যন্ত যেতে হবে। চন্দ্রা থেকে স্থানীয় অটোরিকশা বা সিএনজিচালিত যানবাহনে করে প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরের কালামপুর গ্রামে পৌঁছানো যায়।
ব্যক্তিগত গাড়িতেও সহজেই যাওয়া সম্ভব।
যা দেখবেন
কৃত্রিম লেক, সবুজ বাগান, ছায়াঘেরা পথ এবং নান্দনিক কটেজগুলো এই পল্লীর প্রধান আকর্ষণ। এছাড়া খোলা পরিবেশে হাঁটা, বিশ্রাম নেওয়া এবং ছবি তোলার জন্যও জায়গাটি উপযুক্ত।
কোথায় খাবেন
সোহাগ পল্লীর ভেতরেই ‘মেজবান’ দোতলা রেস্তোরাঁ রয়েছে, যেখানে দেশীয় ও সাধারণ ফাস্টফুড আইটেম পাওয়া যায়। এছাড়া চন্দ্রা এলাকায়ও বেশ কিছু স্থানীয় খাবারের হোটেল রয়েছে।
কোথায় থাকবেন
রিসোর্টের কটেজগুলোতে রাতযাপনের ব্যবস্থা রয়েছে, যা আগে থেকে বুকিং দিয়ে নিতে হয়। এছাড়া গাজীপুর ও আশেপাশে অন্যান্য রিসোর্ট বা আবাসিক হোটেলেও থাকার সুযোগ রয়েছে।
সোহাগ পল্লী তার নীরবতা, সবুজ আর সুশৃঙ্খল পরিবেশ দিয়ে এক দিনের অবকাশকে করে তোলে সহজ, আরামদায়ক এবং স্মরণীয়।

