ঢাকার কোলাহল থেকে খুব বেশি দূরে নয় গাজীপুরের টঙ্গীর পূবাইলের পাইলটবাড়ি এলাকায় বিস্তৃত ৯০ বিঘা জমির ওপর গড়ে উঠেছে প্রকৃতিনির্ভর রিসোর্ট “জল ও জঙ্গলের কাব্য”।
নামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এখানে জল, সবুজ আর নীরবতার এক অপূর্ব মেলবন্ধন তৈরি হয়েছে। কংক্রিটের আধিপত্য এড়িয়ে বাঁশ, পাটখড়ি ও অন্যান্য প্রাকৃতিক উপকরণে নির্মিত অবকাঠামো রিসোর্টটিকে দিয়েছে এক স্বতন্ত্র গ্রামীণ আবহ।
প্রবেশের পরই চোখে পড়ে বিস্তীর্ণ সবুজ, যেখানে গাছপালা, জলাশয় আর খোলা আকাশ একসঙ্গে মিলেমিশে তৈরি করেছে প্রশান্তির এক ভুবন।
এখানে সময় যেন ধীরগতির। নগরের তাড়াহুড়া নেই, নেই শব্দদূষণের ক্লান্তি। যারা প্রকৃতির কোলে নিরিবিলি সময় কাটাতে চান, তাদের জন্য এটি এক আদর্শ গন্তব্য।
কীভাবে যাবেন
ঢাকার মহাখালী বা অন্য যেকোনো বাস টার্মিনাল থেকে সহজেই গাজীপুরের শিববাড়ি যাওয়া যায়। সেখান থেকে স্থানীয় পরিবহনে পূবাইল কলেজ গেট পর্যন্ত পৌঁছাতে হবে।
এরপর মাত্র ৩ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিলেই পাইলটবাড়ি এলাকায় অবস্থিত এই রিসোর্টে পৌঁছে যাওয়া যায়। ব্যক্তিগত গাড়িতেও সরাসরি যাওয়া সম্ভব, সেক্ষেত্রে পথনির্দেশনা আগে জেনে নেওয়া সুবিধাজনক।
যা দেখবেন
রিসোর্টটির প্রধান আকর্ষণ এর প্রাকৃতিক পরিবেশ। চারপাশে গাছপালা, মাঝখানে জলাশয় সব মিলিয়ে এক নিসর্গময় দৃশ্যপট।
এখানে রয়েছে বিল, যেখানে দর্শনার্থীরা বড়শি দিয়ে মাছ ধরার অভিজ্ঞতা নিতে পারেন। খোলা মাঠে হাঁটা, গাছের ছায়ায় বসে সময় কাটানো কিংবা নীরবে প্রকৃতি দেখা সবই এখানে উপভোগ্য।
প্রকৃতির সঙ্গে নিবিড় সংযোগ তৈরি করার জন্য এখানে কোনো কৃত্রিম জৌলুস নেই; বরং সাদামাটা কাঠামোই জায়গাটিকে দিয়েছে আলাদা সৌন্দর্য।
কোথায় খাবেন
“জল ও জঙ্গলের কাব্য”-এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য এর খাবার ব্যবস্থা। এখানে পরিবেশিত অধিকাংশ খাবারই রিসোর্টের নিজস্ব জমিতে উৎপাদিত—ধান, শাক-সবজি ও মাছ। ফলে খাবারে পাওয়া যায় একেবারে খাঁটি গ্রামীণ স্বাদ।
খাবারের তালিকায় সাধারণত থাকে ভাত, পোলাও, মুরগির মাংস, লুচি, দেশি রুই মাছ, ডাল এবং বিভিন্ন ধরনের ভর্তা। এই সাদামাটা অথচ তৃপ্তিদায়ক খাবারই রিসোর্ট অভিজ্ঞতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে।
কোথায় থাকবেন
এটি মূলত ডে আউটভিত্তিক রিসোর্ট। এখানে জনপ্রতি ২০০০ টাকার প্যাকেজে একদিনের অবসর কাটানোর সুযোগ রয়েছে, তবে অন্তত ১০ জনের গ্রুপ হতে হয়। ড্রাইভার বা সহকারীর জন্য অতিরিক্ত ১০০০ টাকা প্রযোজ্য।
প্যাকেজ সময় ও প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তনশীল হতে পারে, তাই যাওয়ার আগে জেনে নেওয়া ভালো।
রাত্রিযাপনের জন্য এখানে সাধারণত আলাদা ব্যবস্থা নেই, তাই দিনভিত্তিক ভ্রমণের পরিকল্পনাই সবচেয়ে উপযোগী।প্রকৃতির নীরবতা, গ্রামীণ স্বাদ আর স্বল্প সময়ে ভিন্ন এক অভিজ্ঞতা সব মিলিয়ে “জল ও জঙ্গলের কাব্য” হয়ে উঠতে পারে এক দিনের ছুটিতে ঢাকার কাছাকাছি সেরা আশ্রয়।

