গাজীপুরের সুকুন্দি গ্রামের বিস্তৃত সবুজের ভেতরপ্রায় ৫০ বিঘা জমি জুড়ে গড়ে উঠেছে ছুটি রিসোর্টে প্রকৃতি আর গ্রামীণ জীবনের সরলতা মিলেছে এক অনন্য অভিজ্ঞতায়। ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের সন্নিকটে অবস্থান হওয়ায় এখানে ঢুকতেই বদলে যায় শহুরে কোলাহলের ছন্দ। বাঁশ, ছন আর প্রাকৃতিক উপকরণে নির্মিত ঘরগুলো যেন গ্রামীণ ঐতিহ্যের জীবন্ত প্রতিরূপ।
রিসোর্টের ভেতরে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে সবুজে ঘেরা পথ, ফলজ ও ভেষজ বাগান, আর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা কটেজ। ছনের তৈরি ঘরগুলোতে রয়েছে আরামদায়ক আবাসনের ব্যবস্থা, পাশাপাশি আধুনিক সুযোগ-সুবিধাও। প্রকৃতির কাছাকাছি থেকেও স্বাচ্ছন্দ্যে থাকার এমন সমন্বয় এই রিসোর্টের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
যা দেখবেন
ছুটি রিসোর্টের মূল আকর্ষণ এর প্রাকৃতিক পরিবেশ। সকালে পাখির কলরব, সন্ধ্যায় ঝিঁঝিঁর ডাক, আর রাতে শিয়ালের হাঁক সব মিলিয়ে এক অনন্য গ্রামীণ সিম্ফনি তৈরি হয় এখানে।
পূর্ণিমার রাতে জোনাকির আলোয় আলোকিত পরিবেশ যেন অন্য এক জগতের অনুভূতি দেয়। রয়েছে নৌভ্রমণের সুযোগ, যেখানে ছোট জলাশয়ের ওপর ভেসে বেড়ানো যায় শান্ত পরিবেশে। সংরক্ষিত বনে ক্যাম্প ফায়ার আয়োজন এই রিসোর্টের আরেকটি জনপ্রিয় দিক।
এছাড়া বার্ডস হাউজ, ফিশিং জোন, এবং দুটি পিকনিক স্পট দর্শনার্থীদের জন্য আলাদা আকর্ষণ সৃষ্টি করে।
কোথায় খাবেন
রিসোর্টের নিজস্ব আধুনিক রেস্তোরাঁয় পরিবেশন করা হয় দেশি খাবার। সকালের নাস্তায় থাকে গরম রুটি, চিতই পিঠা, ডাল ভুনা, সবজি এবং মুরগির মাংস, যা গ্রামীণ স্বাদের সঙ্গে মিলিয়ে তৈরি।
মৌসুমি ফল অতিথিদের আপ্যায়নের অংশ হিসেবে পরিবেশন করা হয়, যা অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করে।
কোথায় থাকবেন
এখানে রয়েছে মোট ২১টি এসি ও নন-এসি কটেজ। কটেজগুলো শ্রেণি ও মানভেদে ভাড়া নির্ধারিত হয়, যা সাধারণত ৭৫০০ থেকে ১৮,০০০ টাকার মধ্যে।
২৪ ঘণ্টার জন্য কটেজ ভাড়া ৫,০০০ থেকে ১০,০০০ টাকার মধ্যে শুরু হয়। এছাড়া বড় আয়োজনের জন্য রয়েছে কনফারেন্স রুম, যার ভাড়া ২০,০০০ থেকে ৩০,০০০ টাকা। ১০০ থেকে ২০০ জনের পিকনিক আয়োজন করতে চাইলে খরচ পড়তে পারে প্রায় ৯০,০০০ টাকা, তবে প্যাকেজ ভেদে এই খরচ পরিবর্তনশীল।
কিভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে গাজীপুরের দিকে যাত্রা করে সুকুন্দি গ্রামে পৌঁছানো যায় সড়কপথে। নিজস্ব গাড়ি বা ভাড়ায় গাড়িতে সহজেই যাওয়া সম্ভব। গাজীপুর শহর বা জয়দেবপুর থেকে স্থানীয় যানবাহনেও রিসোর্টে পৌঁছানো যায়।
ছুটি রিসোর্ট শহরের ক্লান্তি থেকে দূরে, প্রকৃতির সান্নিধ্যে কাটানো এক নির্মল অবকাশের নাম। এখানে সময় ধীরে চলে, আর অনুভূতি হয়ে ওঠে গভীর।
গাজীপুরের সুকুন্দি গ্রামের বিস্তৃত সবুজের ভেতর

