গাজীপুরের মাওনায় প্রায় ৩৬৯০ একর জুড়ে বিস্তৃত বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক দেশের অন্যতম বৃহৎ বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য।
টিলা আর শালবনের প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে ওঠা এই পার্কে মানুষ নয়, বরং প্রাণীরাই থাকে স্বাধীনভাবে। আর দর্শনার্থীরা প্রবেশ করেন তাদের জগতে।
প্রকৃতি, বন্যপ্রাণী ও সংরক্ষণের এক সমন্বিত অভিজ্ঞতা দিতে এই পার্ক এখন ভ্রমণপিপাসুদের অন্যতম গন্তব্য।পার্কটি কয়েকটি ভাগে বিভক্ত: বঙ্গবন্ধু স্কয়ার, বায়োডাইভারসিটি পার্ক, সাফারি কিংডম এবং এক্সটেনসিভ এশিয়ান সাফারি। প্রতিটি অংশেই রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন বৈশিষ্ট্য, যা দর্শনার্থীদের জন্য তৈরি করে বৈচিত্র্যময় অভিজ্ঞতা।
যা দেখবেন
এই সাফারি পার্কের প্রধান আকর্ষণ কোর সাফারি। নির্দিষ্ট গাড়িতে করে প্রবেশ করতে হয় এই অঞ্চলে, যেখানে উন্মুক্ত পরিবেশে বিচরণ করে বাঘ, সিংহ, হরিণ, জেব্রা ও জিরাফসহ নানা বন্যপ্রাণী। খাঁচার বাইরে প্রাণীদের স্বাভাবিক আচরণ কাছ থেকে দেখার এই অভিজ্ঞতা দর্শনার্থীদের জন্য ভিন্ন মাত্রা যোগ করে।
বায়োডাইভারসিটি পার্কে রয়েছে দেশীয় উদ্ভিদ ও প্রাণীর সংরক্ষিত সংগ্রহ, যা পরিবেশ সচেতনতার এক জীবন্ত পাঠশালা।
সাফারি কিংডম অংশে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী প্রদর্শনী, শিশুদের জন্য বিনোদনমূলক স্থান এবং শিক্ষামূলক প্রদর্শনী।
এক্সটেনসিভ এশিয়ান সাফারি অংশে এশীয় প্রাণীদের আবাসস্থল তৈরি করা হয়েছে প্রাকৃতিক পরিবেশ বজায় রেখে।
শালবনের গভীর সবুজ আর টিলাময় ভূপ্রকৃতি পার্কটিকে দিয়েছে আলাদা সৌন্দর্য। এখানে হাঁটতে হাঁটতে কখনো শোনা যায় পাখির ডাক, কখনো চোখে পড়ে বুনো প্রাণীর চলাফেরা সব মিলিয়ে এটি প্রকৃতির কাছাকাছি থাকার এক অনন্য সুযোগ।
কোথায় খাবেন
পার্কের ভেতরে ও আশেপাশে রয়েছে বেশ কয়েকটি খাবারের দোকান ও ছোট রেস্তোরাঁ, যেখানে দেশি খাবার, হালকা নাস্তা ও পানীয় পাওয়া যায়।
তবে ভিড়ের দিনে আগে থেকে খাবারের পরিকল্পনা রাখা সুবিধাজনক। অনেকে নিজেরা খাবার সঙ্গে নিয়েও আসেন।
কোথায় থাকবেন
বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের ভেতরে আবাসনের ব্যবস্থা নেই। তবে গাজীপুরের মাওনা, শ্রীপুর বা জয়দেবপুর এলাকায় বিভিন্ন মানের রিসোর্ট ও হোটেলে থাকার সুযোগ রয়েছে।
এছাড়া ঢাকায় থেকেও দিনের ভ্রমণে এখানে আসা যায়, কারণ সড়কপথে যাতায়াত তুলনামূলক সহজ।
কিভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ মহাসড়ক ধরে মাওনা চৌরাস্তা পর্যন্ত যেতে হবে। সেখান থেকে অল্প দূরেই বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক।
নিজস্ব গাড়ি, ভাড়া গাড়ি বা বাসে সহজেই যাওয়া যায়। ঢাকার মহাখালী বা গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে সরাসরি মাওনা গামী বাস পাওয়া যায়।
প্রবেশমূল্য সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য ৫০ টাকা, ১৮ বছরের নিচে ২০ টাকা, শিক্ষার্থীদের জন্য ১০ টাকা এবং বিদেশি দর্শনার্থীদের জন্য ১০০০ টাকা। মঙ্গলবার ছাড়া প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে এই পার্ক।
বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক কেবল বিনোদনের জায়গা নয়। এটি প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের এক বিস্তৃত পাঠশালা, যেখানে মানুষ শিখতে পারে সহাবস্থানের পাঠ।

