দীর্ঘ এক বছর পেরিয়ে গেলেও শিক্ষার্থীদের ৩৭ দফা দাবি বাস্তবায়ন না হওয়ায় আবারও কঠোর আন্দোলনের পথে হাঁটছে রংপুরের ঐতিহ্যবাহী কারমাইকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা`।
কেন এটা গুরুত্বপূর্ণ: শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন কেবল কিছু দাবির তালিকা নয়, বরং কলেজ প্রশাসনের স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং প্রশাসনিক অনিয়মের বিরুদ্ধে একটি বড় ধরনের প্রতিবাদ। দাবিগুলো পূরণ না হওয়ায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দানা বেঁধেছে, যা ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক পরিবেশকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।
সামগ্রিক চিত্র: ২০২৫ সালের জুন মাসে শিক্ষার্থীরা টানা চার দিনের অবস্থান কর্মসূচির মাধ্যমে ৩৭ দফা দাবি পেশ করেছিল। কলেজ প্রশাসন তখন দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও দীর্ঘ এক বছরেও সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি করেছে। দাবিগুলোর মধ্যে কারমাইকেল কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রুপান্তরের দাবিও রয়েছে।
গভীরে প্রবেশ করুনঃ কারমাইকেল কলেজ
অন্তরালে যা আছে: শিক্ষার্থীরা উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল ও ফি আদায়ের ক্ষেত্রে বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন। অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পুনরায় সুযোগ দেওয়ার নামে নির্ধারিত ফির চেয়ে কয়েক গুণ বেশি অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে, যার প্রমাণ প্রশাসনকে দেওয়া সত্ত্বেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
সংখ্যায়:
- গত বছরের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় ৯৬৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৬৫ জন অকৃতকার্য হয়েছিলেন।
- পরবর্তীতে ৩৬৫ জন অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর মধ্যে ২২৬ জনকে উত্তীর্ণ দেখানো হয়, যেখানে অনেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
এরপর কী: শিক্ষার্থীরা আগামী ২৮ জুলাই সকাল ১১টা পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন ও অনিয়মের লিখিত ব্যাখ্যা না পেলে তারা পূর্বের ন্যায় কঠোর অবস্থান কর্মসূচি ও আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন।
সারকথা: কলেজ প্রশাসনের স্বচ্ছতা, শিক্ষক সংকট নিরসন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং আর্থিক অনিয়মের বিচার না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা পিছু হটতে নারাজ। এখন বল প্রশাসনের কোর্টে, তারা আলোচনা নাকি সংঘাতের পথ বেছে নেয় সেটাই দেখার বিষয়।

