মণিরামপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের চার ঘণ্টার বিশেষ অভিযানে কপোতাক্ষ নদ থেকে সাড়ে তিন হাজার মিটার অবৈধ চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ: চায়না দুয়ারি জাল দেশীয় মাছের প্রজনন মৌসুমে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে। এই জাল নদীর তলদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত হওয়ায় ছোট-বড় সব আকারের মাছ; এমনকি পোনা মাছও একসঙ্গে ধরা পড়ে। দীর্ঘ মেয়াদে এটি নদীর স্বাভাবিক মৎস্য প্রজনন চক্র ধ্বংস করে দেয় এবং স্থানীয় জেলেদের জীবিকাকেও হুমকিতে ফেলে।
বড় ছবি: দেশীয় মাছের প্রজনন ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে সরকার সারা দেশে অবৈধ জালের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান জোরদার করেছে। বর্ষা মৌসুমে নদ-নদীতে মাছের প্রজনন সবচেয়ে বেশি হওয়ায় এই সময়টিকে বিশেষ সংবেদনশীল মনে করে মৎস্য বিভাগ। যশোরের মণিরামপুরে এই অভিযান সেই জাতীয় কর্মসূচিরই মাঠপর্যায়ের প্রতিফলন।
পর্দার আড়ালে: মঙ্গলবার দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহির দায়ান আমিনের নেতৃত্বে কপোতাক্ষ নদের চাকলা, কাঠালতলাসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একযোগে অভিযান পরিচালিত হয়। উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সেলিম রেজার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই অভিযানে প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ যৌথভাবে অংশ নেয়। জব্দকৃত সাড়ে তিন হাজার মিটার জাল ঘটনাস্থলেই আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়, যাতে তা পুনরায় ব্যবহার করা না যায়।
সংখ্যায়: জব্দ করা জালের পরিমাণ ৩,৫০০ মিটার — যা প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ। অভিযান চলে টানা চার ঘণ্টা। কপোতাক্ষ নদের অন্তত দুটি এলাকায় একযোগে তল্লাশি চালানো হয়।
এরপর কী: মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, প্রজনন মৌসুম শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। অবৈধ জাল ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার পাশাপাশি সচেতনতামূলক কার্যক্রমও পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
মূল কথা: একটি সমন্বিত প্রশাসনিক ও মৎস্য বিভাগীয় অভিযানে কপোতাক্ষ নদ থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ চায়না দুয়ারি জাল জব্দ ও ধ্বংস হলো — দেশীয় মৎস্যসম্পদ রক্ষায় এটি একটি সময়োপযোগী ও জরুরি পদক্ষেপ।

