কুবি প্রতিনিধি | কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণি কর্মচারী পরিষদের বিতর্কিত ভোটার তালিকা এবং ৬ কর্মচারীর বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থাকে অবৈধ ঘোষণা করেছে জজ আদালত।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ: সাংগঠনিক ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে কাউকে অন্যায়ভাবে নির্বাচন থেকে দূরে রাখা যায় না- এই রায়ের মাধ্যমে ভুক্তভোগী কর্মচারীরা তাদের হারানো সদস্যপদ ও ভোটাধিকার ফিরে পেলেন। একই সাথে এটি ক্যাম্পাসের অন্যান্য সংগঠনের জবাবদিহিতার জন্যও একটি শক্ত বার্তা।
বড় চিত্র: ২০২৩ সালের ২৩ জানুয়ারি তৎকালীন পরিষদ সভাপতি দিপক চন্দ্র মজুমদার ও সাধারণ সম্পাদক মো মহসিন শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও মিথ্যা তথ্য প্রচারের অভিযোগ এনে এই ৬ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছিলেন। শাস্তির মাত্রা ছিল একেক জনের ক্ষেত্রে একেক রকম। গণিত বিভাগের কামরুল হাসানকে সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। রসায়ন বিভাগের নাছির উদ্দিন ও বাংলা বিভাগের জিয়াউর রহমানের সদস্যপদ স্থগিত করা হয়। ফার্মেসি বিভাগের আবদুল আউয়ালকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়। আর মার্কেটিংয়ের হাবিবুর রহমান ও হিসাববিজ্ঞানের আব্দুল কাদেরের সদস্যপদ বহাল থাকলেও তাদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।
ভেতরের কথা:
- মামলার বাদী হাবিবুর রহমানের মতে, “এই শাস্তির পেছনের গল্পটা ছিল একটি সাজানো নির্বাচনের মাধ্যমে নিজেদের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করা এবং বিরোধীদের পুরোপুরি দমিয়ে রাখা।”
- অবৈধ ভোটার তালিকাকে চ্যালেঞ্জ করে ২৬ জুলাই মামলা করেন তিনি।
সিনিয়র সিভিল জজ আদালতের বিচারক কামাল হোসেনের দেওয়া রায়ে এখন আইনিভাবে প্রতিষ্ঠিত হলো যে, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ছিল উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ষড়যন্ত্র। নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত তালিকাটিও ছিল সম্পূর্ণ বেআইনি।
পরবর্তী পদক্ষেপ: আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট এই ৬ ব্যক্তিকে দ্রুত বৈধ ভোটার হিসেবে বহাল করতে হবে এবং তাদের সাংগঠনিক অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। অন্যদিকে সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো মহসিনের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং জানান যে আদালতের রায়ের বিষয়ে তিনি একা কোনো মন্তব্য করতে পারবেন না।
এর আসল অর্থ হলো: স্বৈরাচারী মনোভাব নিয়ে কোনো অগঠনতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিলে শেষ পর্যন্ত আইনি লড়াইয়ে তার পতন ঘটে। কুবির এই কর্মচারীরা দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নিজেদের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার করে ঠিক এই সত্যটাই প্রমাণ করলেন।

