ভারত থেকে সরকারিভাবে আমদানি করা চালের একটি বড় চালানে মারাত্মক বিষাক্ত উপাদান ‘আফলাটক্সিন’ শনাক্ত করেছে খাদ্য বিভাগ, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে।
কেন এটা গুরুত্বপূর্ণ: খাদ্য নিরাপত্তার মানদণ্ড লঙ্ঘন করে বিষাক্ত চাল বাজারে প্রবেশের উপক্রম হয়েছিল। এই চাল দীর্ঘমেয়াদে সেবন করলে মানুষের লিভারের মারাত্মক ক্ষতিসহ লিভার ক্যানসারের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়, যা জনস্বাস্থ্য সংকটের কারণ হতে পারে।
যা ঘটেছে: এমভি এইচটি পাইওনিয়ার জাহাজে করে ভারত থেকে আসা চালের চালানটি প্রথমে পরীক্ষার পর ‘খাবার উপযোগী’ বলে ছাড়পত্র পেয়েছিল। কিন্তু গুদামে পৌঁছানোর পর চালের নিম্নমান দেখে কর্মকর্তাদের সন্দেহের সৃষ্টি হয় এবং পুনরায় পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
সংখ্যায়:
- চট্টগ্রামের হালিশহর কেন্দ্রীয় খাদ্যগুদামে (সিএসডি) ১৩৫ টন চালে এই বিষাক্ত উপাদান পাওয়া গেছে।
- খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের নির্দেশে মোট সাড়ে ৯ হাজার টন চালের বিতরণ স্থগিত রেখে মান পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে এই ১৩৫ টন চালের ফলাফল নেতিবাচক এসেছে।
অন্তরালে যা আছে: প্রাথমিক পরীক্ষায় চালগুলো উত্তীর্ণ হলেও পরবর্তী পরীক্ষায় গাজীপুরের ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট ১৩৫ টন চালে আফলাটক্সিনের অস্তিত্ব নিশ্চিত করে। আর্দ্র পরিবেশে শস্য সংরক্ষণের ত্রুটির কারণে ‘অ্যাসপারজিলাস’ গোত্রের ছত্রাক থেকে এই বিষাক্ত উপাদান তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এরপর কী: খাদ্য অধিদপ্তর ইতোমধ্যে ১৩৫ টন চালের বিতরণ স্থগিত করেছে এবং অধিকতর পরীক্ষার জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে। বাকি চালগুলো বিতরণ করা হলেও, এই ঘটনার পর পুরো আমদানিকৃত চালের মান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
সংক্ষেপে: সরকারি পর্যায়ে জিটুজি চুক্তির আওতায় চাল আমদানির মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ায় মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ব্যর্থ হওয়ায় জনমনে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই বিষাক্ত চালের বিষয়ে কী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় এবং এর দায়ভার কার ওপর বর্তায়।

