সৌদি আরবের বিভিন্ন কারাগারে বর্তমানে প্রায় সাড়ে সাত হাজার বাংলাদেশি নাগরিক বিভিন্ন অপরাধে দণ্ডিত হয়ে বন্দি জীবন কাটাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
কেন এটা গুরুত্বপূর্ণ: বিদেশে কর্মরত হাজার হাজার বাংলাদেশির আইনি সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে সৌদি আরবের মতো কঠোর আইনি কাঠামোর দেশে বাংলাদেশিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার বিষয়টি কূটনৈতিক ও মানবিক দিক থেকে অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যা ঘটেছে: সৌদি কর্তৃপক্ষ নিয়মিত বিরতিতে বন্দি বাংলাদেশিদের তালিকা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে পাঠায়, যার ভিত্তিতে সরকার পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করে। তবে সম্প্রতি দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় বিস্তারিত তথ্য না পাওয়ায় সরকার আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়ে রায়ের অনুলিপি চেয়েছে। সৌদি আরবে কর্মরত প্রবাসীদের আইনি সহায়তা ও তাদের অধিকার রক্ষায় সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন।
সংখ্যায়:
- সৌদি আরবের কারাগারে বন্দি বাংলাদেশির সংখ্যা প্রায় ৭,৫০০ জন।
- গত ১০ অক্টোবর সৌদি আরবের কিং খালেদ বিমানবন্দরে হুতিদের হামলায় শাহেদ আহম্মেদসহ দুইজন বাংলাদেশি নিহত হন, যা প্রবাসীদের নিরাপত্তার ঝুঁকিকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।
অন্তরালে যা আছে: প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম স্বীকার করেছেন যে, বিদেশে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়ায় মধ্যস্বত্বভোগী ও দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য প্রবাসীদের জন্য বড় দুর্ভোগের কারণ। অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় এবং আইনি জ্ঞানের অভাব অনেক সময় প্রবাসীদের বিপদে ফেলে, যার ফলে তারা অজান্তেই বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়েন বা আইনি জটিলতায় পড়েন।
এরপর কী: সৌদি সরকারের কাছ থেকে রায়ের অনুলিপি পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশ, যা পাওয়া গেলে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের অপরাধের ধরন ও বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে। সরকার আশা করছে, এই তথ্যের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার করা সম্ভব হবে।

