রেডিয়েন্ট ফিশ ওয়ার্ল্ড কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের একটি আধুনিক বিনোদন ও শিক্ষামূলক অ্যাকুরিয়াম। নাগরিক কোলাহলের ভেতরেই সামুদ্রিক ও মিঠাপানির জলজ প্রাণীর বৈচিত্র্য দেখার সুযোগ করে দিয়েছে এই ফিশ ওয়ার্ল্ড।
পরিবার, শিশু-কিশোর ও প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এটি একটি স্বল্পসময়ের ভ্রমণ গন্তব্য হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
রেডিয়েন্ট ফিশ ওয়ার্ল্ড এ কিভাবে যাবেন?
রেডিয়েন্ট ফিশ ওয়ার্ল্ড কক্সবাজারের যে কোনো এলাকা থেকে সহজেই পৌঁছানো যায়। শহরটির ঝাউতলা এলাকায় এটির মূল অবস্থান।
নিকটবর্তী গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বা ল্যান্ডমার্কে নেমে অল্প হাঁটা বা রিকশা নিলেই গন্তব্যে পৌঁছানো যায়। যানজট এড়াতে ছুটির দিনে সকাল বা বিকেলের আগাম সময় বেছে নেওয়া ভালো।
রেডিয়েন্ট ফিশ ওয়ার্ল্ড এ যা দেখবেন
রেডিয়েন্ট ফিশ ওয়ার্ল্ডের প্রধান আকর্ষণ এর থিমভিত্তিক অ্যাকুরিয়াম গ্যালারি। এখানে মিঠাপানির রঙিন মাছ, সামুদ্রিক প্রজাতির মাছ, স্টিংরে, শার্কের বিভিন্ন প্রজাতি এবং কোরাল-ঘেরা পরিবেশ দেখা যায়। স্বচ্ছ কাচের টানেল দিয়ে হাঁটার সময় চারপাশে মাছের সাঁতারের দৃশ্য দর্শনার্থীদের আলাদা অভিজ্ঞতা দেয়।
শিশুদের জন্য শিক্ষামূলক তথ্যবোর্ড, বিভিন্ন মাছের পরিচিতি ও আবাসস্থল সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত বর্ণনা রাখা হয়েছে এখানে। আলোকসজ্জা ও কৃত্রিম সাগর পরিবেশ ফটোগ্রাফির জন্য উপযোগী।
এর বাইরে নির্দিষ্ট সময় পরপর মাছ খাওয়ানোর দৃশ্য দেখার সুযোগও থাকে। এটি অনেক সময় দর্শনার্থীদের আগ্রহ বাড়ায়।
রেডিয়েন্ট ফিশ ওয়ার্ল্ডে কোথায় খাবেন?
রেডিয়েন্ট ফিশ ওয়ার্ল্ডের ভেতরে সাধারণত পূর্ণাঙ্গ রেস্তোরাঁ থাকে না। তবে হালকা নাশতা বা পানীয়ের ব্যবস্থা থাকতে পারে। খাবারের জন্য আশপাশের এলাকার ওপর নির্ভর করাই ভালো। নিকটবর্তী বিভিন্ন মানের রেস্তোরাঁ আর ফাস্টফুডের ক্যাফে সহজেই পাওয়া যায়। পরিবার নিয়ে গেলে ভ্রমণ শেষে কাছাকাছি কোনো রেস্তোরাঁয় খাবারের পরিকল্পনা করলে সময় বাঁচে।
রেডিয়েন্ট ফিশ ওয়ার্ল্ড বেড়াতে গিয়ে কোথায় থাকবেন?
রেডিয়েন্ট ফিশ ওয়ার্ল্ড ঘোরার জন্য সাধারণত আলাদা করে রাতযাপনের প্রয়োজন হয় না। ঝাউতলার কাছাকাছি এলাকাতেই হোটেল বা গেস্টহাউসে থাকা সুবিধাজনক হতে পারে। উক্ত এলাকায় বিভিন্ন বাজেট ও স্ট্যান্ডার্ডের হোটেল পাওয়া যায়। অবস্থান নির্বাচনের সময় যাতায়াত ও ট্রাফিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়া ভালো।
টিকিট, সময় ও ভ্রমণ শিষ্টাচার
প্রবেশের জন্য নির্ধারিত টিকিট সংগ্রহ করতে হয়, যা অনলাইনে বা সরাসরি কাউন্টার থেকে পাওয়া যায়। সপ্তাহান্ত ও ছুটির দিনে দর্শনার্থীর চাপ বেশি থাকে, তাই ভিড় এড়াতে কর্মদিবস বেছে নেওয়া সুবিধাজনক।
অ্যাকুরিয়ামের ভেতরে ফ্ল্যাশ ফটোগ্রাফি, কাচে আঘাত করা বা মাছকে বিরক্ত করা নিষিদ্ধ। নির্ধারিত নিয়ম মেনে চললে এই জলজ জগতের সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি সংরক্ষণেও ভূমিকা রাখা সম্ভব।শহরের ভেতর সীমিত সময়ে ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা নিতে চাইলে রেডিয়েন্ট ফিশ ওয়ার্ল্ড হতে পারে একটি কার্যকর ভ্রমণ।

