বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিনের আরও দক্ষিণে, সমুদ্রের বুকে বিচ্ছিন্নভাবে দাঁড়িয়ে থাকা এক টুকরো নিঃশব্দ সৌন্দর্যের নাম ছেঁড়া দ্বীপ। দেশের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় দ্বীপটির নাম ছেঁড়া দ্বীপ।
এখানে নেই কোলাহল, নেই কৃত্রিম বিনোদন — শুধু নীল সমুদ্র, আকাশের সঙ্গে মিশে যাওয়া দিগন্ত আর পায়ের নিচে ছড়িয়ে থাকা প্রবাল পাথরের নীরব ইতিহাস ব্যতীত। প্রকৃতিকে কাছ থেকে দেখতে চাইলে ছেঁড়া দ্বীপ নিঃসন্দেহে ব্যতিক্রমী এক গন্তব্য হতে পারে পর্যটকদের জন্য।
কিভাবে যাবেন
ছেঁড়া দ্বীপে যেতে হলে প্রথমে কক্সবাজার হয়ে টেকনাফ পৌঁছাতে হবে। টেকনাফ জেটি থেকে জাহাজ বা ট্রলারে সেন্ট মার্টিন দ্বীপে যাত্রা শুরু হয়।
সেন্ট মার্টিন পৌঁছে জোয়ার-ভাটার সময় অনুযায়ী নৌকায় ছেঁড়া দ্বীপে যাওয়া যায়। সাধারণত ভাটার সময় হাঁটাপথে বা ছোট নৌকায় দ্বীপে পৌঁছানো সম্ভব। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলেই কেবল এই যাত্রা নিরাপদ, তাই স্থানীয়দের পরামর্শ মেনে চলা জরুরি।
যা দেখবেন
ছেঁড়া দ্বীপের মূল আকর্ষণ এর প্রাকৃতিক গঠন। স্বচ্ছ নীল পানির নিচে দেখা যায় প্রবাল পাথর, সামুদ্রিক শৈবাল আর ছোট মাছের ঝাঁক।
ভাটার সময় সমুদ্র সরে গেলে পাথুরে তটভূমি জেগে ওঠে, যা হাঁটার জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা তৈরি করে। সূর্যাস্তের সময় আকাশ আর সমুদ্রের রঙ বদলের দৃশ্য এখানে সবচেয়ে মোহনীয়।
এখানে কোথাও কোনো স্থাপনা না থাকায়, চারদিকে শুধু প্রকৃতির নিজস্ব বিন্যাস। ফটোগ্রাফারদের কাছে ছেঁড়া দ্বীপ মানে আলো, রঙ আর নীরবতার এক দুর্লভ সমন্বয়।
কোথায় খাবেন
ছেঁড়া দ্বীপে কোনো স্থায়ী খাবারের দোকান বা রেস্টুরেন্ট নেই। তাই খাবারের ব্যবস্থা করতে হয় সেন্ট মার্টিন দ্বীপ থেকেই।
সেন্ট মার্টিনের স্থানীয় হোটেল ও খাবারের দোকানে সামুদ্রিক মাছ, ভাজা লবস্টার, ভাত ও ডালসহ সাধারণ খাবার পাওয়া যায়। অনেক পর্যটক নৌকায় ওঠার আগেই শুকনো খাবার ও পানি সঙ্গে নিয়ে যান, যা ছেঁড়া দ্বীপ ভ্রমণে সবচেয়ে নিরাপদ বিকল্প।
কোথায় থাকবেন
ছেঁড়া দ্বীপে থাকার কোনো সুযোগ নেই। এখানে ভ্রমণ শেষ করে একই দিনে সেন্ট মার্টিন দ্বীপে ফিরে যেতে হয়। সেন্ট মার্টিনে বিভিন্ন মানের গেস্টহাউস ও হোটেল রয়েছে, যেখানে রাতযাপন করা যায়।
যারা একটু আরামদায়ক পরিবেশ চান, তারা আগে থেকেই বুকিং করে নিতে পারেন। আবহাওয়া ও নৌচলাচলের সময়সূচি মাথায় রেখে রাতযাপনের পরিকল্পনা করাই বুদ্ধিমানের।
ভ্রমণ সতর্কতা ও বাস্তবতা
ছেঁড়া দ্বীপ সংরক্ষিত ও পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল এলাকা। প্রবাল সংগ্রহ, প্লাস্টিক ফেলা বা যেকোনো ধরনের ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড আইনত নিষিদ্ধ।
এ ছাড়া জোয়ারের সময় দ্বীপ দ্রুত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তাই সময়ের হিসাব না মেনে সেখানে অবস্থান করা বিপজ্জনক। পর্যটকদের দায়িত্বশীল আচরণই এই স্বর্গরাজ্যকে টিকিয়ে রাখতে পারে।
ছেঁড়া দ্বীপ মূলত বিলাসী ভ্রমণের জায়গা নয়। এটি প্রকৃতির সঙ্গে একান্তে কিছু সময় কাটানোর সুযোগ। নিঃশব্দ সমুদ্র আর আকাশের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকার অভিজ্ঞতাই এই দ্বীপের আসল সম্পদ।

