চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার উপকূলবর্তী জনপদে অবস্থিত কুমিরা ঘাট ক্রমেই পর্যটকদের নজরে আসা একটি ভিন্নধর্মী ভ্রমণস্থান। পাহাড়, নদী ও সমুদ্র—এই তিন ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের মিলন কুমিরা ঘাটকে দিয়েছে আলাদা পরিচয়।
এখানে নেই কৃত্রিম সাজসজ্জা বা পর্যটনকেন্দ্রিক আড়ম্বর। আছে প্রকৃতির স্বাভাবিক প্রবাহ, স্থানীয় জীবনের ছন্দ এবং নীরব সৌন্দর্য।
কুমিরা ঘাট কিভাবে যাবেন?
ঢাকা থেকে সড়কপথে চট্টগ্রাম অভিমুখী যেকোনো বাসে উঠে সীতাকুণ্ড বা কুমিরা এলাকায় নামা যায়। ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে কুমিরা ইউনিয়নের প্রবেশপথ থেকেই স্থানীয় সিএনজি বা অটোরিকশায় সহজেই কুমিরা ঘাটে পৌঁছানো সম্ভব।
চট্টগ্রাম শহর থেকে চাইলে লোকাল বাস, মিনিবাস কিংবা মোটরসাইকেলেও যাওয়া যায়। রেলপথে ফৌজদারহাট বা সীতাকুণ্ড স্টেশনে নেমে সেখান থেকে অল্প সময়ের যাত্রায় ঘাটে পৌঁছানো যায়। বর্ষাকালে রাস্তা পিচ্ছিল হতে পারে, তাই চলাচলে সতর্কতা জরুরি।
কুমিরা ঘাট যা দেখবেন
কুমিরা ঘাটের মূল আকর্ষণ নদী ও সমুদ্রের সংযোগস্থল। জোয়ার-ভাটার সঙ্গে সঙ্গে পানির রঙ ও স্রোতের ভিন্নতা এখানে স্পষ্টভাবে চোখে পড়ে। ঘাটের পাশে নোঙর করা ছোট মাছধরা নৌকা, জেলেদের জাল টানা, নদীর কিনারে দাঁড়িয়ে থাকা নীরব পাহাড়—সব মিলিয়ে দৃশ্যপটটি স্বাভাবিক অথচ গভীরভাবে আকর্ষণীয়।
ভোরবেলা সূর্যোদয় আর বিকেলে সূর্যাস্ত কুমিরা ঘাটের সবচেয়ে শক্তিশালী মুহূর্ত। আকাশের রঙ বদলের সঙ্গে সঙ্গে নদীর বুকে প্রতিফলিত আলো পর্যটকদের স্থির করে রাখে। কাছাকাছি পাহাড়ি পথ ধরে হাঁটলে প্রকৃতির আরও রুক্ষ সৌন্দর্য ধরা দেয়।
কুমিরা ঘাট কোথায় খাবেন?
কুমিরা ঘাট এলাকায় বড় কোনো রেস্টুরেন্ট বা ক্যাফে নেই। স্থানীয় চায়ের দোকান ও ছোট খাবারের হোটেলে ডাল-ভাত, ভাজা মাছ, সবজি কিংবা নাস্তার ব্যবস্থা পাওয়া যায়।
ভালো খাবারের জন্য কুমিরা বাজার, ফৌজদারহাট বা সীতাকুণ্ড বাজারই ভরসা। এসব এলাকায় দেশীয় খাবারের পাশাপাশি সাধারণ হোটেলে মুরগি, গরু কিংবা মাছের ভুনা সহজেই পাওয়া যায়। নদী ও সমুদ্রঘেঁষা হওয়ায় টাটকা মাছের পদ এখানে জনপ্রিয়।
কোথায় থাকবেনকুমিরা ঘাটে থাকার জন্য নির্দিষ্ট কোনো রিসোর্ট বা পর্যটনকেন্দ্র গড়ে ওঠেনি। রাতযাপনের জন্য সীতাকুণ্ড কিংবা ফৌজদারহাট এলাকার আবাসিক হোটেল ও গেস্টহাউস ব্যবহার করতে হয়। সীমিত বাজেটে সাধারণ মানের থাকার ব্যবস্থা পাওয়া যায় সেখানে। আর একটু আরাম ও সুবিধা চাইলে চট্টগ্রাম শহরের হোটেলই উপযুক্ত।
বেশিরভাগ পর্যটকই দিনে কুমিরা ঘাট ঘুরে সন্ধ্যার আগেই শহরে ফিরে যান।কুমিরা ঘাট মূলত তাদের জন্য, যারা ভিড়বিহীন প্রকৃতি, নদীঘাটের জীবন এবং ধীরগতির সময়কে অনুভব করতে চান। এখানে পর্যটনের প্রচলিত রূপ নেই, আছে বাস্তব দৃশ্য ও স্বাভাবিক পরিবেশ। এই স্বতঃস্ফূর্ততাই কুমিরা ঘাটকে পর্যটনের এক অনন্য সোপানে পরিণত করেছে।

