বাংলাদেশের দক্ষিণ প্রান্তে, টেকনাফ উপজেলার শেষ সীমান্তে অবস্থিত শাহপরীর দ্বীপ এক ভিন্ন মাত্রার পর্যটন অভিজ্ঞতা দেয়।
একদিকে নাফ নদী, অন্যদিকে বঙ্গোপসাগর — এই দুই জলধারার সংযোগস্থলেই দ্বীপটির অবস্থান। পাহাড়, নদী, সমুদ্র আর সীমান্তঘেঁষা জনজীবন মিলিয়ে শাহপরীর দ্বীপ কোনো প্রচলিত সৈকত বা রিসোর্টকেন্দ্র নয়।
বরং এটি বাস্তব ভূগোল ও মানুষের জীবনের সঙ্গে মিশে থাকা এক আলাদা পর্যটন পরিসর।
শাহপরীর দ্বীপ কিভাবে যাবেন?
ঢাকা থেকে সড়কপথে কক্সবাজার হয়ে টেকনাফ যাওয়া সবচেয়ে কার্যকর উপায়। ঢাকা–কক্সবাজার রুটে সরাসরি বাসে এসে কক্সবাজার থেকে টেকনাফগামী বাস বা মাইক্রোবাসে যাত্রা করা যায়।
টেকনাফ শহর থেকে শাহপরীর দ্বীপের দূরত্ব প্রায় ৭ কিলোমিটার। সড়কপথে সরাসরি রিকশা, সিএনজি বা লোকাল অটোরিকশায় দ্বীপে পৌঁছানো সম্ভব। চাইলে টেকনাফ ঘাট থেকে নাফ নদীপথেও যাওয়া যায়, তবে আবহাওয়া ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।
শাহপরীর দ্বীপ যা দেখবেন
শাহপরীর দ্বীপের প্রধান আকর্ষণ এর ভৌগোলিক অবস্থান। নাফ নদীর শান্ত জল আর বঙ্গোপসাগরের ঢেউ — দুই বিপরীত স্রোত একসঙ্গে দেখার সুযোগ এখানে পাওয়া যায়। নদীর ওপারে মিয়ানমারের পাহাড়ি রেখা স্পষ্টভাবে চোখে পড়ে, যা এই স্থানকে এক অনন্য সীমান্তদৃশ্য দেয়।
জেলেদের নৌকা, নদীর পাড়ে জাল শুকানো, লবণাক্ত বাতাস আর খোলা আকাশ মিলিয়ে দ্বীপটির পরিবেশ শান্ত অথচ গভীর। ভোরবেলায় নদীর ওপর সূর্যোদয় এবং বিকেলে সমুদ্রের পাড়ে সূর্যাস্ত শাহপরীর দ্বীপের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দৃশ্য। এখানে কোনো কৃত্রিম বিনোদন নেই, প্রকৃতিই মূল দর্শন।
শাহপরীর দ্বীপে কোথায় খাবেন?
শাহপরীর দ্বীপে বড় রেস্টুরেন্ট নেই। স্থানীয় ছোট হোটেল ও দোকানে ভাত, ডাল, ভাজা মাছ, শুঁটকি কিংবা সাধারণ তরকারি পাওয়া যায়। সামুদ্রিক মাছ এখানে তুলনামূলক সহজলভ্য এবং টাটকা।
উন্নত বা বৈচিত্র্যময় খাবারের জন্য টেকনাফ বাজারে যেতে হয়। সেখানে বিভিন্ন মানের হোটেলে দেশীয় খাবারের পাশাপাশি সাধারণ রেস্টুরেন্ট খাবার পাওয়া যায়। ভ্রমণের সময় সঙ্গে হালকা খাবার ও পানি রাখা বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত।
শাহপরীর দ্বীপে কোথায় থাকবেন?
শাহপরীর দ্বীপে পর্যটকদের জন্য মানসম্মত হোটেল বা রিসোর্ট গড়ে ওঠেনি। থাকার জন্য টেকনাফ শহরই প্রধান ভরসা। টেকনাফে সীমিত আকারে কিছু আবাসিক হোটেল ও গেস্টহাউস রয়েছে, যেগুলো স্বল্প বাজেটের ভ্রমণকারীদের উপযোগী।
বেশি সুবিধা ও আরাম চাইলে কক্সবাজার শহরে অবস্থান করে দিনের সফরে শাহপরীর দ্বীপ ঘুরে আসাই সাধারণ পদ্ধতি।
শাহপরীর দ্বীপ মূলত তাদের জন্য, যারা প্রচলিত পর্যটন কাঠামোর বাইরে গিয়ে একটি জায়গাকে তার বাস্তব রূপে দেখতে চান। এখানে নেই সাজানো সৈকত, নেই বিলাসী রিসোর্ট—আছে সীমান্তঘেঁষা প্রকৃতি, নদী ও সমুদ্রের যুগলবন্দি এবং মানুষের সাধারণ জীবনযাপন। এই ভিন্ন আঙ্গিকই শাহপরীর দ্বীপকে আলাদা পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত করেছে।

